কলকাতা : এবার নজিরবিহীন বিধানসভা নির্বাচন দেখেছে পশ্চিমবঙ্গবাসী। ভোটের অনেক আগে থেকেই রাজ্যে এসে গিয়েছিল প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোটের আবহে গোটা রাজ্যে কার্যত মুড়ে ফেলা হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে। নিরাপদে সুষ্ঠু ভোট করানো ছিল নির্বাচন কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য। স্পর্শকাতর জেলা ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় নিয়োগ করা হয়েছিল অতিরিক্ত পুলিশ অবজার্ভার। ভোট দেওয়ার বুথেও মোতায়েন ছিল প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনী। বুথের জন্য, তার চারপাশের জন্য জারি হয়েছিল একগুচ্ছ কড়া নিয়ম। নিরাপত্তায় বিন্দুমাত্র ফাঁক রাখতে চায়নি কমিশন। তাদের লক্ষ্যই ছিল মানুষ যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে যান, তা নিশ্চিত করা। আর এই ব্যাপারে অনেকাংশেই সফল হয়েছে নির্বাচন কমিশন। 

Continues below advertisement

Continues below advertisement

গণনাতেও কমিশনের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, কোন কেন্দ্রের জন্য কী ব্যবস্থা 

পশিচমবঙ্গে এবার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে ২ দফায়। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফা এবং ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা। প্রথম দফায় ১৬ জেলার ১৫২ আসনে ভোট গ্রহণ হয়েছে। আর দ্বিতীয় দফায় ৭ জেলার ১৪২ আসনে ভোট গ্রহণ হয়েছে। দু'দফাতেই রেকর্ড হারে ভোট পড়েছে। মানুষ আক্ষরিক অর্থেই ভোট উৎসব পালন করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় বুথে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল ভোটারদের লম্বা লাইন। স্বাধীনতার পর এই প্রথম এত মানুষ ভোট দিয়েছেন বলে আগেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এবার দু'দফার ভোটে সেভাবে হিংসার খবরও পাওয়া যায়নি। তবে বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা, অশান্তি হয়েছে - একথা ঠিকই। সেই সঙ্গে আরেকটা দৃশ্য দেখা গিয়েছে। ২ দফার ভোটেই যেখানে বিন্দুমাত্রও অশান্তির আঁচ পাওয়া গিয়েছে, তৎপরতার সঙ্গে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, অনেকক্ষেত্রে পুলিশও। 

২ দফার ভোটের মতোই ভোট গণনার দিনও নিরাপত্তায় কোনও খামতি রাখতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন। একগুচ্ছ নিয়ম ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে কমিশনের তরফে। নতুন করে নিয়োগ করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ অবজার্ভার এবং কাউন্টিং অবজার্ভারদের। আপাতত বিভিন্ন স্ট্রং রুমে রয়েছে ইভিএম মেশিন। সেখানেও রয়েছে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী। আগামীকাল ভোটের গণনার দিনের জন্যেও বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গণনার আগে যাতে কোনও ধরনের অসুবিধা না হয়, কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, তার জন্য নিরাপত্তা বলয় আরও সুদৃঢ় করা হয়েছে। এমনিতেও ভোট মিটলেও রাজ্যে ৫০০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকবে বলে আগেই জানা গিয়েছে। ১৬৫ জন অতিরিক্ত কাউন্টিং অবজার্ভার এবং ৭৭ জন অতিরিক্ত পুলিশ অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে ভোটের গণনার দিনের জন্য। নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ভোটের গণনা হোক, এটাই নির্বাচন কমিশনের মূল লক্ষ্য।