কলকাতা: ফলতায় ভোট বাতিলের পর আরও কড়া কমিশন শাস্তির মুখে কমিশনের বেশ কয়েকজন আধিকারিক ও কর্মী। প্রশ্নের মুখে প্রিসাইডিং অফিসার থেকে রিটার্নিং অফিসার। সাধারণ পর্যবেক্ষকের ভূমিকাতেও প্রশ্ন, কড়া পদক্ষেপের পথে কমিশন। 'একজন প্রিসাইডিং অফিসার কীভাবে লিখতে পারেন, EVM থেকে টেপ সরানোর পর ভালভাবেই ভোট হয়েছে? ভালভাবে ভোট হলে কেন দুপুর ১টা পর্যন্ত কোনও রিপোর্ট দিলেন না?'প্রিসাইডিং অফিসার থেকে পর্যবেক্ষক, অফিসারদের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ কমিশন।
ফলতায় ভোটের দিন প্রিসাইডিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার এমনকি সাধারণ পর্যবেক্ষকের আচরণ নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রথমত প্রিসাইডিং অফিসার কিভাবে লিখতে পারেন ব্ল্যাক টেপ ছিল। সেটা সরানো হয়েছে। এবং তারপর ভালোভাবেই ভোট মিটেছে। তাহলে বেলা একটা পর্যন্ত কেন তিনি রিপোর্ট দিলেন না। দ্বিতীয়ত প্রায় ৪০ টির বেশি বুথে এই ধরণের অভিযোগ আসার পরেও রিটার্নিং অফিসার ও সাধারণ পর্যবেক্ষক কোন রি পোল নেই এটা লিখে ফর্ম ১৭ C জমা দিলেন। এছাড়াও কমিশনের নজরে সাধারণ পর্যবেক্ষও। বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত আসছেন শুনেও তিনি অপেক্ষা না করেই চলে যান। স্ক্রুটিনি হল অথচ সেখানে বিজেপিকে ডাকেন নি ওই পর্যবেক্ষক এবং আর ও বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তি হতে পারে এই সব কর্তাদের। শাস্তি হিসেবে সাসপেনসন থেকে শুরু করে চাকরিও যেতে পারে।
উল্লেখ্য, ২৯ এপ্রিল, দ্বিতীয় দফায় ভোট হয়েছে ফলতায়। কিন্তু কারচুপির নানা অভিযোগ পেয়ে শেষমেশ সেখানকার ভোটই বাতিল করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষণা করা হয়েছে পুনর্নির্বাচনের। তারপরও নিশ্চিন্তে নেই ফলতার অনেক ভোটার। অশান্তির আশঙ্কায় ভোটের অনেক আগে থেকেই নির্বাচন কমিশনের নজরে ছিল ফলতা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসাবে উত্তরপ্রদেশের IPS অফিসার অজয় পাল শর্মাকে দায়িত্ব দেয় কমিশন। যিনি আবার 'সিঙ্ঘম' পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচিত। অভিযুক্তদের খোঁজে তাঁকেও ফলতায় টহল দিতে দেখা যায়। অন্যদিকে নিজেকে রিলের 'পুষ্পা' বলে দাবি করে, পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান।
এরপরও ফলতায় ভোট নিয়ে পরপর অভিযোগ আসতে শুরু করে। বিজেপি প্রার্থী থেকে এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের মুখে উঠে আসে হুমকি, অত্যাচার, মারধরের মতো বহু অভিযোগ। প্রতিবাদে পরপর ২দিন পথে নামে ফলতার ভোটারদের একাংশ।
