হাওড়া: দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হতেই উত্তেজনা হাওড়ায়। হাওড়ার জগৎবল্লভপুরে বিক্ষোভ স্থানীয়দের। ডোমজুড় ধুলাগড় রোড অবরোধ করে কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ। ৩০৮ ও ৩০৯ নম্বর বুথ মিলিয়ে প্রায় ৮৫০ জনের বেশি মানুষের নাম বাদের অভিযোগ। এরপরই বিক্ষোভে সামিল হন এলাকার বাসিন্দারা।
শনিবার বিকালে ঘটনাটি ঘটে হাওড়ার জগৎবল্লভপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বেগরি গ্রাম পঞ্চায়েতের শাঁখারীদহ গ্রামে। ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। ডোমজুড় ধুলোগড় রোড অবরোধ করে কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখায় এলাকার গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ জগৎবল্লভপুর বিধানসভার ৩০৮ ও ৩০৯ নম্বর বুথ মিলিয়ে প্রায় ৮৫০ জনের বেশি মানুষের নাম এসআইআর এর অতিরিক্ত তালিকা থেকে বাদ গেছে। যদিও বেশিরভাগের বাদ যাওয়া ভোটারের নাম ২০০২ এর তালিকায় আছে। এছাড়াও তাদের নামে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড প্যান কার্ড এমনকি পাসপোর্ট আছে। তাহলে কী করে তাদের নাম বাদ যায়? এই প্রশ্নই তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন নাম বাতিলের পর তাদের রোহিঙ্গা তকমা দিয়ে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত করছে নির্বাচন কমিশন।
বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ আরো অভিযোগ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের পর তাদের ব্যাংকের একাউন্টের টাকাও হাতিয়ে নেওয়া হবে। এর প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘক্ষণ রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ডোমজুড় থানার পুলিশ। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীও আসে।কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছানোর পর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বচসা শুরু হয়। কালো পতাকা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে বিক্ষোভ দেখানো হয়। অভিযোগ বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কোনোভাবে সমস্যার সুরাহা হচ্ছে না।বিজেপির কথামত নির্বাচন কমিশন এই কাজ করেছে বলে অভিযোগ।
শুধু হাওড়া নয়। কোচবিহারেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের ২০ ও ২১ নম্বর বুথের প্রায় সাড়ে চারশো-রও বেশি ভোটারের নাম ডিলিটেড হিসেবে এসেছে। প্রতিবাদে, আজ পুন্ডিবাড়ি-সোনারপুর রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় এলাকাবাসী। ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
এদিকে, SIR নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এদিন আক্রমণ করেছেন অমিত শাহ। ভোটের প্রচারে এদিন বঙ্গে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ''সারা দেশে SIR হয়েছে, কোনও রাজ্যে সমস্যা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গে কী এমন হল যে সুপ্রিম কোর্টকে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করতে হল? এর জবাব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিতে হবে। আপনার অফিসাররা নির্ভীকভাবে কাজ করেননি বলেই জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করতে হয়েছে।''
