রাজীব চৌধুরী, মুর্শিদাবাদ: বিধনসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে দিকে দিকে হিংসার ছবি বিভিন্ন জায়গায় ধরা পড়েছে। এবার মুর্শিদাবাদে দিনের আলোয় দলবল নিয়ে বাড়িতে ঢুকে হামলার ঘটনা হল। এই ঘটনায় রক্তাক্ত হলেন একই বাড়ির একাধিক সদস্য়। ইতিমধ্যেই স্থানীয়দের মধ্য়ে এই ঘটনার সম্পর্কের জানার পর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাটি মূলত মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার হাটপাড়া। স্থানীয়দের অভিযোগ, শনিবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। পরিবারের ৫ সদস্য়কে বেধড়ক মারধর করা হয়। আক্রান্ত তহিদ শেখের পরিবারের দাবি, তাঁরা দুষ্কৃতীদের একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে কান্দি থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। হামলাকারীরা স্থানীয় বলেই দাবি তহিদ শেখের পরিবারের তরফে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ভোট পূর্ববর্তী এমন ঘটনায় রীতিমত ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

Continues below advertisement

দু দিন আগেই তৃণমূলের এক কর্মীকে খুন হতে হয়েছিল। ভোটপর্বের আবহে উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ায় তৃণমূলের বুথ সভাপতিকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছিল। সেখানকার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে খবর, কব্জি থেকে দুটো হাত কাটা এবং একটি পা ভাঙা অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে মসিউর কাজির দেহ। তিনি দেগঙ্গার চাঁপাতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের গাংনীয়া এলাকায় তৃণমূলের বুথ সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। মৃত তৃণমূল নেতার পরিবার সূত্রে দাবি, গতকাল রাত ৯টার পর থেকে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে খবর, মিনাখাঁ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ঝুঝুরগাছা এলাকায় তাঁর অর্ধনগ্ন ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। কাপড়ের দোকান রয়েছে তৃণমূল নেতা মসিউর কাজির। দোকান থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ করেছে মৃতের পরিবার। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তৃণমূলেরই এক স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের দাবি, দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে খুন হয়েছেন মসিউর। 

ইতিমধ্যেই ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ ও প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হয়ে গিয়েছে সব দলেরই প্রায়। কিছুদিন আগেই পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীতে বিজেপির চায়ে পে চর্চা কর্মসূচি চলাকালীন হামলার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি অরবিন্দ প্রামানিককে গালিগালাজ ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। কাঠগড়ায় পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি রাজকুমার পাণ্ডে ও তাঁর অনুগামীরা। হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভানেত্রী। স্থানীয় নাদনঘাট থানার সামনে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চলে। হামলা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি। বিজেপির বিরুদ্ধে মারধরের পাল্টা অভিযোগ করেছেন তিনি। 

Continues below advertisement