লড়াই সেয়ানে সেয়ানে। ফলে, পাণ্ডুয়ায় বাম ও তৃণমূল দুই পক্ষের প্রচার চলছে জোর কদমে। তবে, প্রচারের ময়দানে রাজনৈতিক বৈরিতা থাকলেও সামনা-সামনি সৌজন্যের নজির তৈরি করলেন তাঁরা। সোমবার পাণ্ডুয়ার জামনা অঞ্চলে মুখোমুখি হন তৃণমূল প্রার্থী সমীর চক্রবর্তী ও বাম প্রার্থী আমজাদ হোসেন। তাঁরা দু'জনেই প্রাক্তন বিধায়ক, আর এদিন দেখা গেল দুই নেতার মধ্যে সৌজন্য।

Continues below advertisement

২০১৬ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বাঁকুড়া জেলার তালড্যাংরা বিধানসভা থেকে বিধায়ক ছিলেন তৃণমূলের সমীর চক্রবর্তী। অন্যদিকে, ২০১৬ সালেই এই পাণ্ডুয়ার বিধায়ক নির্বাচিত হন বাম প্রার্থী আমজাদ হোসেন।

প্রচার কর্মসূচির পর দুই প্রার্থী হাত মেলান একে অপরের সঙ্গে। তারপর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছবিও তোলেন তাঁরা। সেই ছবি পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন তৃণমূল প্রার্থী। ও সেই ছবি পোস্ট করে সৌজন্য ও শান্তির বার্তাও দেন তিনি।

Continues below advertisement

তৃণমূল প্রার্থী সমীর জানান, তাঁরা দু'জনেই ২০১৬ সালে বিধায়ক ছিলেন। আর সেই সুত্রে তাঁদের দুজনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আলাপ রয়েছে। তবে রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হলেও তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক অটুট থাকবে বলেও মনে করেন তিনি। সমীরবাবুর জানিয়েছেন, পাণ্ডুয়ায় যেন কোনও অশান্তি না হয়, বা যেন কোনও বিভাজন না ঘটে, এই বার্তায় তিনি দিয়েছেন আমজাদকে। একই সঙ্গে সব দলের কর্মী ও সমর্থকদের শান্তি বজায় রাখার আহ্বানও জানান তিনি। এ ছাড়াও ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে সাধারণ মানুষক একজোট হওয়ার কোথায় বলেন তিনি।

অনদিকে, সিপিএম প্রার্থী আমজাদ হোসেন এই সাক্ষাতকে "অতিথি দেব ভব" ভাবনার প্রতিফলন বলেই ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, বাংলার সংস্কৃতিতে অতিথিকে সম্মান জানানোর ঐতিহ্য আগে থেকেই রয়েছে। আর সেই সৌজন্য বজায় রাখতেই এমন আচরণ। এ ছাড়াও আমজাদ আরও বলেন, গত কয়েক বছর মানুষের অভিজ্ঞতা যা হয়েছে, তা থেকেই তাঁরা পরিবর্তনের জন্য তৈরি। পরিবর্তন করার জন্য তৈরি। এ ছাড়াও আমজাদ হোসেনের দাবি বর্তমান সময় ক্রমাগত লালঝাণ্ডার পক্ষে সাধারণ মানুষের সমর্থন বাড়ছে।

তবে বর্তমানে যে ভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে বা যেভাবে একাধিক ঘটনা ঘটছে সেই সময় এমন ধরনের সৌজন্যমূলক মুহূর্ত ভোটের আবহে এক অন্য রকমের বার্তা দিল। আর এই সৌজন্যের বাতাবরণে পাণ্ডুয়াই হয়তো পথ দেখাচ্ছে গোটা বাংলাকে।