ঝাড়গ্রাম: রাজ্যের দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এবার ভাগ্য নির্ধারণের (West Bengal Assembly Election 2026 Result) পালা। বাংলায় পরিবর্তন না প্রত্যাবর্তন, কী ঘটতে চলেছে? গোটা দেশের নজর সেইদিকে। ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যার নিরিখে দেখতে গেলে কালিম্পংয়ের পর সবথেকে কম বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে যে জেলায়, তার নাম ঝাড়গ্রাম (Jhargram Election Result)। নয়াগ্রাম, গোপীবল্লভপুর, ঝাড়গ্রাম ও বিনপুর, ঝাড়গ্রাম জেলায় এই চারটি বিধানসভা কেন্দ্রই রয়েছে। এর মধ্যে দুইটি তফশিলি উপজাতির জন্য সংরক্ষিত, আর বাকি দুইটি সাধারণ আসন।

Continues below advertisement

২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় এই জেলায় নির্বাচন সম্পন্ন হয়। সংখ্যার নিরিখে মাত্র চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের এই ঝাড়গ্রাম জেলার দিকে গোটা বাংলার জনগণের বরাবরই বাড়তি নজর থাকে। কারণ এই জেলাই জঙ্গলমহলের প্রাণকেন্দ্র। ঝাড়গ্রাম জেলা বরাবরই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলেছে। ৬০, ৭০-র দশকে যেখানে কংগ্রেসের বাড়বাড়ন্ত ছিল, সেখানে ৩৪ বছরের বাম শাসনে এটি সিপিআইএমের শক্ত ঘাঁটি হিসাবেই পরিচিত ছিল। আবার ২০১১ সালে পরিবর্তের জোয়ারে গা ভাসিয়েছিল এই জেলাও।

২০২১ সালের গত বিধানসভা নির্বাচনেও এই জেলায় তৃণমূলের জয়জয়কার চোখে পড়ে। পাঁচ বছর আগের বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলার সবকয়টি আসনেই জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের প্রার্থীরা। ভোট প্রাপ্তির হার ছিল ৫৩.০৪%। সেখানে বিজেপি ২০২১ সালে পেয়েছিল ৩৭.১৫% ভোট। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তৃণমূলের ভোটপ্রাপ্তির হার কিছুটা কমে গিয়ে ৪৯.৯% দাঁড়ায় বটে, (বিজেপির ভোট প্রাপ্তির হার বেড়ে হয় ৩৯%), তবে চারটি লোকসভাতেই জয়ী হয়েছিল তৃণমূলই।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন:- রাসবিহারীতে ধরাশায়ী দেবাশীষ কুমার, জিতলেন বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্ত

এই জেলায়ই বিনপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়েছেন বীরবাহা হাঁসদা। সাঁওতালি সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাজনীতিতে পা দেওয়ার পরে তৃণমূলের টিকিটে জিতেছিলেন। তিনি বিদায়ী তৃণমূল সরকারের স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্ব-কর্মসংস্থান বিভাগের মন্ত্রী ছিলেন। তারপরে রাজ্য সরকারের বন বিভাগের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন। তাঁর দিকে নজর ছিলই।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এই জেলারই বিধানসভা কেন্দ্র গোপীবল্লভপুরের বিদায়ী বিধায়ক খগেন্দ্রনাথ মাহাতো একেবারে শেষলগ্নে, ভোটের আগের রাতে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন। শেষবেলায় দলবদল কি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছিল? এবার কি জঙ্গলমহলে ফুটবে পদ্ম? নাকি ঘাসফুলকেই আঁকড়ে ধরে রাখবে এই জেলা? এই প্রশ্নই সকলের মনে ঘোরাফেরা করছিল।

শেষমেশ দেখা গেল বাংলায় বদলের ঝড়ে বদল ঘটল জঙ্গলমহলেও। সাম্প্রতিক ট্রেন্ড বজায় রেখে শাসকদলের সঙ্গেই হাঁটার সিদ্ধান্ত নিল ঝাড়গ্রাম। ঘাসফুলকে কার্যত উপড়ে ফেলে পদ্মফুল ফোটাল এই জেলা। জেলার চার কেন্দ্রেই জিতল বিজেপি।

 
বিধানসভা কেন্দ্রের নামপ্রার্থীর নামকে এগিয়ে?
নয়াগ্রাম (তফশিলি উপজাতি)দুলাল মুর্মু (TMC), অমিয় কিস্কু (BJP), ডঃ পুলিন বিহারী বাস্কে (CPIM), প্রশান্ত মুর্মু (INC)অমিয় কিস্কু (BJP), ৬৪২৪ ভোটে জয়ী
গোপীবল্লভুুরঅজিত মাহাতো (TMC), বিকাশ সারঙ্গী (CPI), রাজেশ মাহাতো (BJP), সৌরভ ঘোষ (INC) রাজেশ মাহাতো (BJP), ২৬৬৭৫ ভোটে জয়ী
ঝাড়গ্রামমঙ্গল সোরেন (TMC), প্রসেনজিৎ দে (INC), লক্ষ্মী কান্ত সাউ (BJP), অর্জুন কুমার মাহাতো (CPIM)লক্ষ্মী কান্ত সাউ (BJP), ৩৮১৪৭ ভোটে জয়ী
বিনপুর (তফশিলি উপজাতি)রবীন্দ্রনাথ সর্দার (CPIM), গোলাপী সোরেন (INC), ডঃ প্রণত টুডু (BJP), বীরবাহা হাঁসদা (TMC)ডঃ প্রণত টুডু (BJP), ২২৯৭৭ ভোটে জয়ী