কালিম্পং: মিলল উত্তর। পাহাড় থেকে কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল তৃণমূল। কালিম্পং-এ জয়ী হলেন, বিজেপি প্রার্থী ভারত কুমার ছেত্রী। একের পর এক রাউন্ড ধরে যখন গণনা চলছিল, তখনই স্পষ্ট হচ্ছিল ছবিটা। আর কাউন্টিং শেষে, সেই ত্রমশ স্পষ্ট হয়ে আসা ছবিতে সিলমোহর পড়ল। পাহাড়ে গেরুয়া আবির, কালিম্পং-এ একটিই সিটে লড়াই ছিল। সেখানেই জয়ী হল বিজেপি (West Bengal Assembly Election 2026 Result)

Continues below advertisement

নজরে কালিম্পং

পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে দক্ষিণাংশ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই বঙ্গবাসীর নজর থাকে পাহাড়ের দিকেও। পাহাড়ের সমীকরণ এক্কেবারে আলাদা। আর পাহাড় বলতেই মনে পড়ে, দার্জিলিং আর কালিম্পংয়ের কথা। দার্জিলিং তুলনামূলকভাবে বড় আর রাজনৈতিকভাবে ঘটনাবহুল হলেও, কালিম্পংয়ের মতো ছোট্ট শহর ও রাজনীতিতে তার নিজস্ব জায়গা করে নিয়েছে খুব সহজেই। বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ১টি আসনের লড়াই এখানে!

Continues below advertisement

কালিম্পংয়ের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস

কালিম্পং-এ ১টি মাত্র আসন। ২০২৬ সালে, গোটা বঙ্গের মতো, এখানেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন রেকর্ড পরিমাণ সাধারণ মানুষ। প্রথম দফায় ভোট হয়েছে, কালিম্পং-এ। চলতি বছরের নির্বাচনে কালিম্পং-এ ভোটদানের হার ছিল, ৮৩.০৪ শতাংশ। এই আসনের অন্তর্ভূক্ত এলাকাগুলি হল, কালিম্পং পৌরসভা, কালিম্পং-১ ব্লক, কালিম্পং-২ ব্লক এবং গোরুবাথান ব্লক। এটি দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৭টি বিধানসভা বিভাগের একটি। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার (তামাং গোষ্ঠী) রুদেন সাদা লেপচা জয়লাভ করেছিলেন। তিনিই এবারের বিদায়ী বিধায়ক। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন, বিজেপি দলের সুবা প্রধান । জয়ের ব্যবধান ছিল ৩,৮৭০ ভোট। এবার কালিম্পংয়ের কুর্শিতে আসিন হল, বিজেপি। বেশ অনেকটা ব্যবধানে জয় পেয়েই ক্ষমতায় এলেন, ভারত কুমার ছেত্রি।

কেন বঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ কালিম্পং?

একটা সময়ে, কালিম্পং ছিল সিকিমের অংশ, পরবর্তীকালে ভুটানিদের শাসন ছিল এই জায়গার ওপর। সিকিম ও ভুটানের গভীর প্রভাব রয়েছে কালিম্পংয়ের সংস্কৃতিতে। ১৮৬৪-৬৫ সালের অ্যাংলো-ভুটান যুদ্ধের পর, এটি ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং দার্জিলিং জেলার অংশ হিসেবেই এটিকে সেই সময়ে ধরা হত। ১৯৮০-র দশক থেকে কালিম্পং দার্জিলিংয়ের সঙ্গে পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে সক্রিয় থেকেছে বঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের পরে, ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কালিম্পং, কালিম্পং, জলঢাকা ও গরুবথান - এই তিনটি থানা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নতুন জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

কালিম্পংবিজেপির ভারত কুমার ছেত্রিজয়ী

গণনা শেষ, ফলাফল ও স্পষ্ট। পাহাড়ে এবার শুধুই গেরুয়া রঙ, ২০২৬ সালে সরকার বদল হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের।