কলকাতা: আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব জল্পনা-কল্পনার অবসান। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলঘোষণার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। সকাল ৮টা থেকে রাজ্যের ৭৭টি কেন্দ্রে একসঙ্গে ভোটগণনা শুরু হবে। প্রথমে গণনা হবে পোস্টাল ব্যালট। তারপর সকাল ৮.৩০ থেকে শুরু হবে EVM-এ প্রাপ্ত ভোটের গণনা। (West Bengal Election Counting Rules)

Continues below advertisement

রাজ্যে সবচেয়ে বেশি, ২৭ রাউন্ড গণনা হবে চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে। অন্য দিকে, সবচেয়ে কম ১০ রাউন্ডে গণনা হবে মেটিয়াবুরুজ, সপ্তগ্রাম ও বীজপুর বিধানসভা কেন্দ্রে। যে বিধানসভা কেন্দ্রে যত রাউন্ড গণনা হবে, তা শেষ হওয়ার ২ রাউন্ড আগেই পোস্টাল ব্যালট গোনার কাজ শেষ করে ফেলতে হবে। (West Bengal Election Result)

আরও পড়ুন: ‘আমার মাথায় ফের চুল গজাবে, আজকের পর থেকে মমতা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী’, বললেন বিজেপি-র কৌস্তভ বাগচি

Continues below advertisement

এবারের ভোটগণনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গণনাকেন্দ্র রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায়। এই জেলার ৩৩টি আসনের ভোটগণনা হবে ৮টি কেন্দ্রে। ফলতা বাদে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩০টি আসনের জন্য ৬টি গণনাকেন্দ্র করা হয়েছে। কলকাতায় মোট ১১টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে।তার জন্য মোট ৫টি গণনা কেন্দ্র করা হয়েছে। 

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আজ সকাল ৮টা থেকে ৭৭টি কাউন্টিং সেন্টারে একসঙ্গে গণনা শুরু হবে। ভোট গণনার জন্য অতিরিক্ত ১৬৫ জন কাউন্টিং অবজার্ভার এবং ৭৭ জন পুলিশ অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে। গণনাকেন্দ্রের ভিতরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পুরো প্রক্রিয়া যাতে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে হয়, তার দায়িত্ব থাকবে কাউন্টিং অবজার্ভারদের উপরে।

আরও পড়ুন: 'আমায় ভুল বুঝ না' ভোট গণনার আগেই কেমন এমন বার্তা বিজেপি প্রার্থী 'অভয়ার মা'-র?

 অন্যদিকে, গণনাকেন্দ্রের বাইরের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা দেখবেন পুলিশ অবজার্ভাররা। তবে তাঁরা গণনা কক্ষে ঢুকতে পারবেন না। কমিশন ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, গণনাকেন্দ্রে প্রবেশ সমপূর্ণভাবে QR কোড ভিত্তিক পরিচয়পত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ঢোকা যাবে না মোবাইল নিয়ে।

এবারে গণনার আগে অতিরিক্ত ১৬৫ জন কাউন্টিং অবজার্ভারকে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। নিয়োগ করা হয়েছে ৭৭ জন পুলিশ অবজার্ভারকে। আজ ফলতা বাদে, রাজ্যের ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা। ব্যাপক বেনিয়মের অভিযোগে বাতিল করা হয়েছে ফলতার ভোট। গণনার আগে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গণনাকেন্দ্রগুলি।

এবারে দু'দফায় বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। প্রথম দফায় গত ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হয় দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, কোচবিহার, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুরে। 

দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হয় গত ২৯ এপ্রিল। ভোটগ্রহণ হয় নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানে। দুই দফাতেই এবার রেকর্ড হারে ভোটদান হয়। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের তুলনায় ২০২৬-এ ভোটার সংখ্যা ৫১ লক্ষ কমলেও, গতবারের তুলনায় এবার প্রায় ৩১ লক্ষ ভোট বেশি পড়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৮২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। আর এবার ২০২৬-এ গড়ে ভোট পড়েছে প্রায় ৯৩ শতাংশ। অর্থাৎ, গতবারের তুলনায় এবারের নির্বাচনে প্রায় ১১ শতাংশ ভোট বেশি পড়েছে। এই বিপুল ভোটদান নজিরবিহীন এবং সর্বকালীন রেকর্ড। শতাংশের পাশাপাশি রেকর্ড তৈরি হয়েছে সংখ্যার হিসাবেও। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে এরাজ্য়ে মোট ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৩৪ লক্ষ। SIR-এর জেরে এবার ভোটার সংখ্যা কমে হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৮৩ লক্ষ। অর্থাৎ, ২০২১-এর তুলনায় এবার ৫১ লক্ষ ভোটার কমেছে। 

তবে মোট ভোটার কমলেও প্রদত্ত ভোট চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। ২০২১-এ ভোট দিয়েছিলেন ৬ কোটি ৩ লক্ষ ভোটার। আর, এবার মোট ভোট দিয়েছেন ৬ কোটি ৩৪ লক্ষ ভোটার। ২ দফা মিলিয়ে ২০২১-এর তুলনায় ভোটদাতার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩১ লক্ষ। প্রথম দফায় যে ১৬টি জেলায় ভোট হয়েছে, ২০২১-এর তুলনায় সেই জেলাগুলিতে, প্রায় সাড়ে ২১ লক্ষ বেশি ভোট পড়েছে। আর, দ্বিতীয় দফার ৭ জেলায় বেশি ভোট পড়েছে প্রায় সাড়ে ৯ লক্ষ।