কলকাতা: অতীতে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর নাম জড়িয়েছিল। সেই পরেশচন্দ্র অধিকারী (Paresh Chandra Adhikary) কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জের তফশিলি জাতির সংরক্ষিত সিট থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এই বিধানসভা নির্বাচনে। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026 result) মুখ থুবড়ে পড়লেন তিনি। বিজেপির দধিরাম রায়ের বিরুদ্ধে পরাজিত হলেন পরেশ অধিকারী। 

Continues below advertisement

এবার পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে দুই দফায়। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৬টি জেলায় ১৫২টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়েছিল। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় সাতটি জেলার ১৪২টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়েছিল। প্রথম দফায় ভোট হয়েছিল দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম - এই ১৬ জেলায়। দ্বিতীয় দফায় ভোট হয়েছে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান - এই সাত জেলায়। ফলতায় নতুন করে ভোট হবে ২১ মে। ফল ঘোষণা ২৪ মে। ফলে আজ ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের মোট ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের ফল ঘোষণা হচ্ছে।

আর ভোট গণনা পর্ব শুরু হতেই সকাল থেকে বিভিন্ন জায়গায় দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপির সরকার গঠনের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। সেই আভাস যত সময় গড়াচ্ছে, ততই আরও সুস্পষ্ট হচ্ছে। মেখলিগঞ্জে সেই পরিবর্তনের ঝড় দেখা গেল। ১৯ রাউন্ড গণনার পরেই ইলেকশন কমিশন থেকে পাওয়া প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দধিরাম রায়ের প্রাপ্ত ভোট ১১৯১০৯, আর পরেশচন্দ্র অধিকারীর প্রাপ্ত ভোট ৮৯৫২৫। অর্থাৎ ২৯৫৮৪ ভোটে পরেশচন্দ্র অধিকারীক হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপির প্রার্থী দধিরাম রায়। 

Continues below advertisement

২০১৮ সালে ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন পরেশচন্দ্র অধিকারী। অভিযোগ উঠে, তার কয়েকদিনের মধ্যেই SSC-র তালিকায় তাঁর মেয়ের নাম উঠে যায়। সেই বছরই নভেম্বরে, চাকরিতে যোগ দেন পরেশচন্দ্র অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা। যে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে, সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই নিয়োগ দুর্নীতিতে পরেশচন্দ্র অধিকারী ও তাঁর মেয়ের নামও জড়ায়। অভিযোগ উঠেছিল মৌখিক পরীক্ষা না দিয়েই অঙ্কিতা চাকরি পেয়েছিলেন। তবে সেইসব অভিযোগ সত্ত্বেও পরেশচন্দ্র অধিকারীকে মেখলিগঞ্জ থেকে তৃণমূলের প্রার্থী করা হয়। তা নিয়ে দলের অন্দরমহলেও ক্ষোভ ছিলই। হলদিবাড়ির এক কাউন্সিলর পরেশ অধিকারীর হয়ে প্রচার করবেন না বলে দল ছেড়েছিলেন। এবার শেষমেশ পরাজিতই হতে হল তাঁকে।