কলকাতা: ভোট (West Bengal Assembly Election) যতই এগিয়ে আসছে ততই হুমকি-হুঁশিয়ারির অভিযোগ আসছে। বহরমপুর, জীবনতলার পর এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিম ব্লকে তৃণমূলের (TMC) যুব সভপতি ইমরান হাসান মোল্লার ভোটারদের হুমকি দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল (Video Viral) হল। 

Continues below advertisement

কী হুমকি দিয়েছিলেন ওই তৃণমূল নেতা?

গতকালের পর প্রকাশ্য সমাবেশ থেকে হুমকি ইমরান হাসান মোল্লার। এদিন তিনি বলেন, 'তৃণমূলকে ভোট না দিলে পিঠটা ফুলে বালিশ হবে।' মগরাহাটে ফের বিরোধীদের যুব তৃণমূল নেতার হুমকি ঘিরে বিতর্ক বেড়েছে। হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, 'তৃণমূল ছাড়া কোনও ভোট যেন অন্য কোথাও না পড়ে। তৃণমূলের বাইরে ভোট পড়লে, এলাকায় থাকতে দেব না। তৃণমূলকে ভোট না দিলে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কীভাবে পাবে। এমনকী কীভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবে, দেখে নেওয়ার হুঁশিয়ারি। 

Continues below advertisement

এর আগেও হুমকি দিয়েছিলেন, কী বলেছিলেন সেই সময় তৃণমূলের যুব সভাপতি? 

এর আগেও 'অকুতোভয়' ইমরান হাসান মোল্লা ভোটের আগেই হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, '৭০০টা ভোট এই বুথে ৭০০টা জোড়াফুলে দিতে হবে, যদি অন্য জায়গায় ভোট পড়ে, তাহলে কিন্তু লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ভোটের পরে বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ তৃণমূলের খাবে, তৃণমূলের পরবে, আর তৃণমূলের সঙ্গে বেইমানি করবে, বেইমানদের ২০২১ সালে ক্ষমা করেছি, ২০২৬ সালে আমরা আর ক্ষমা করব না। যদি তৃণমূল করতে চাও, এলাকায় থাক, নাহলে আজকের পর থেকে বৌ-বাচ্চা নিয়ে এলাকার বাইরে চলে যাও, আমরা আর ক্ষমা করব না'।

এদিকে, তৃণমূল নেতার এই হুমকি ভিডিও ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে জোর তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, 'এরা তৃণমূলের সম্পদ, এদের এমন ওষুধ দিতে হবে, যাতে ভোটের পরে সোজা দাঁড়াতে না পারে, এরা বলছে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে, ভোটের পরে এরাই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাবে'। 

ইমরানের মতো অন্যান্যরাও হুমকি-পথে?

তবে শুধু ইমরান নন, এর আগে বহরমপুরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি রাজু মণ্ডলের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে বহরমপুরের তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের প্রচারে ভোটারদের কার্যত হুমকি দিতে দেখা যায় তাঁকে। সাফ বলা হয়েছিল, 'পদ্মফুলে ভোট দেওয়া যাবে না খাতায় এন্ট্রি করা থাকবে, কোন বাড়ির, কে ভোট দিচ্ছে, আমরা সব, মোটামুটি আমাদের ক্যামেরা থাকবে'। 

এমনকী একই হুঁশিয়ারির সুর শোনা গিয়েছিল বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার। তিনি বলেন, 'যাঁরা আমাদের পোলিং এজেন্ট হবেন, শুধু খেয়াল রাখবেন আঙুলটা কোথায় যাচ্ছে...'। নির্বাচন কমিশন সষ্ঠু ভোটের প্রতিশ্রুতি দিলেও শাসক নেতাদের এরকম হুমকি-হুঁশিয়ারির পর নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন তো সাধারণ মানুষ? সেই প্রশ্নই উঠছে।