কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, সমীরণ পাল ও রাজীব চৌধুরী, কলকাতা:টিকিট না পেয়ে মুখ খুলছেন তৃণমূলের একের পর বিধায়ক। রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায় বলছেন, টাকার কাছে হেরে গেলাম। ফরাক্কার বিধায়ক মণিরুল ইসলাম বলেছেন, আমাকে বলির পাঁঠা করা হল। আমডাঙার রফিকুর রহমানের দাবি, তাঁর সিটে দল হারবে। বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক তাজমুল হোসেন বলেছেন, দল তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। হতাশার সুর শোনা গেছে প্রাক্তন বিধায়কদের গলাতেও। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, একদা 'TMC কর্মী খুনে' গ্রেফতার হন ! চার্জশিটেও আছে নাম, তাহলে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে পবিত্রই কেন তৃণমূলের তুরুপের তাস ?

Continues below advertisement

রাজগঞ্জ  তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায় বলেন,'আমি টাকার কাছে হেরে গেলাম।' ফারাক্কার তৃণমূল বিধায়ক  মণিরুল ইসলাম বলেছেন, আমাকে বলির পাঁঠা করা হল। আমডাঙা তৃণমূল বিধায়ক  রফিকুর রহমান বলেন, এই সিট জিতবে না (তৃণমূল)। মঙ্গলবার রাজ্যের ২৯১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে তৃণমূল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর এবারই প্রথম ৭৪ জন বিদায়ী বিধায়ককে আর টিকিট দেয়নি রাজ্যের শাসক দল!আর তারপরেই রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ, প্রার্থী না হয়ে কেউ ক্ষোভ উগরে দিলেন! তো কেউ লুকিয়ে রাখতে পারলেন না হতাশা! 

 SIR-এর শুনানি চলাকালীন মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা বিডিও অফিসে ভাঙচুরের ঘটনায় বিতর্কে জড়ান স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলাম। এবার তাঁকেও আর প্রার্থী করেনি তৃণমূল। ফারাক্কা তৃণমূল  মণিরুল ইসলাম বলেন, ফরাক্কা বিডিও অফিসে মুসলিমদের জন্য লড়াই করতে গিয়ে, সেটা হয়তো মমতা ব্য়ানার্জি বা অভিষেক ব্য়ানার্জি ভাল নজরে নেয়নি। আমি ফরাক্কার মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে বলির পাঁঠা হলাম। '

টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভার তৃণমূল বিধায়কও। পূর্বস্থলী উত্তর তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক  তপন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ৯৮ সালে যাঁরা এসেছে তাঁরা দলে মর্যাদা পাবে না। তাঁদের দাম বেশি একবার বিজেপি, একবার সিপিএম, একবার তৃণমূল, তাঁদের দাম বেশি। বেঁচে গিয়েছি। আমি এখন মেয়েকে নিয়ে, নাতনিকে নিয়ে থাকব। আমডাঙার তিনবারের বিধায়ক রফিকুর রহমানের গলায় শোনা গেছে হতাশার সুর! আমডাঙা  তৃণমূল বিধায়ক  রফিকুর রহমান বলেন, আমি কি দুর্নীতি করেছি? কী অপকর্ম করেছি? এই সিট জিতবে না (তৃণমূল)। বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারীকেও এবার আর প্রার্থী করেনি দল। প্রার্থী করা হয়নি বাদুড়িয়ার বিদায়ী বিধায়ক আবদুর রহিম কাজিকে। 

এদিকে পুরুলিয়ার পাড়া বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করলেন জেলা তৃণমূলের মহিলা সভানেত্রী। এই বিধানসভা থেকে এবার মানিক বাউরিকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। যার নেপথ্যে চক্রান্ত দেখছেন স্থানীয় তৃণমূল নেত্রী। পুরুলিয়া  মহিলা তৃণমূল সভানেত্রী  মিনু বাউরি বলেন, এই ঘোষণার ক্ষেত্রে কিছুটা অন্য গন্ধ আমি পাচ্ছি। এমন একজন প্রার্থী তিনি যাকে কর্মীরা চেনে না। এই যে চক্রান্ত, জানি না কী হবে পাড়া বিধানসভা, কিন্তু এর বিচার আমি মনে করি জনগণ নিশ্চয়ই দেবে।