কলকাতা:বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) দ্বিতীয় দফার ভোটে অন্য পুলিশের ছবি দেখল পশ্চিমবঙ্গবাসী (West Bengal News)। যে পুলিশের (West Bengal Police) বিরুদ্ধে তৃণমূলের (TMC News) ইশারায় কাজ করার অভিযোগ তোলে বিরোধীরা, দ্বিতীয় দফার ভোটে, সেই পুলিশকেই দেখা গেল একেবারে দবং মুডে। নিরপেক্ষভাবে আইনশৃঙ্খলা সামলালেন তারা। কলকাতা থেকে জেলায় দিনভর সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেছে পুলিশকে।
পুলিশের প্রশংসায় শোনা গেল বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের কথায়। এদিন তিনি বলেন, 'পুলিশ-প্রশাসন চাইলে অনেক কিছুই করতে পারে। তাঁরাও বুঝতে পারছে আগামী দিনে কী হতে চলেছে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অভিব্যক্তি বদলে গেছে। এরকম পিঠ সোজা করা পুলিশ বাংলায় দেখিনি।'
যদিও উল্টো সুর ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লার। তিনি বলেন, 'বেছে বেছে তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে হামলা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর দোষ দেব না, যা কিছু করেছে কলকাতা পুলিশের একটা অংশ। তৃণমূল কংগ্রেসকে হারাতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা', আক্রমণ ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লার।
আরও পড়ুন, পশ্চিমবঙ্গে এক্সিট পোলে বামেদের অবস্থান কোথায়? কেরলেও কমছে আসন সংখ্যা?
এদিকে পুলিশ- তৃণমূল যোগের অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন, 'রাজ্য জানত ডিএম, এসপিকে সরানো হবে। তাই আগে থেকে সেটিং করে রেখেছিল রাজ্য। রাজ্যের পুলিশ তৃণমূলেরই দালালি করবে'।
প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফার ভোটও মোটের ওপর শান্তিতে করিয়ে, এবারের ম্য়ান অফ দ্য় ম্য়াচ নির্বাচন কমিশন। তাদের তাদের নিরাপত্তার কড়াকড়িতে অশান্তির মাথাচাড়া দিতে পারেনি। ফলে ভরসা পেয়ে, প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফাতেও ঢেলে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা।
কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি হল ঠিকই। কিন্তু, ভোট ঘিরে যে হিংসা এবং রক্তস্নান পশ্চিমবঙ্গবাসী আগে দেখেছে, তার কিছুই হল না এবার। অশান্তির খবর পাওয়া মাত্র সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি ঠাণ্ডা করল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
দুপুরের দিকে শুভেনদু অধিকারী কালীঘাটে পৌঁছলে সেখানে কুরুক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয়। জয় বাংলা এবং জয় শ্রীরাম স্লোগান-যুদ্ধে ধুন্ধুমার বেধে যায়। কিছুক্ষণের মধ্য়েই পুলিশ এবং বাহিনী সেখানে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি সামাল দেয়। গত দু'দিনের মতো বুধবারও দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার ফিল্ডে দাপটের সঙ্গে ঘুরে বেরিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের সিঙ্ঘম IPS অফিসার অজয় পাল শর্মা। নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন নিরাপত্তার কড়াকড়ি ভরসা জুগিয়েছে ভোটারদের। ঢেলে ভোট দিয়েছেন তাঁরা। উপচে পড়েছে EVM! তৈরি হয়েছে নতুন রেকর্ড! এবার শুধু দেখার অপেক্ষা, এই বিপুল ভোট কোন দলের মুখে হাসি ফোটায়।
