পূর্ব মেদিনীপুর : রাজ্যজুড়েই গেরুয়াঝড়। নন্দীগ্রামে ৯ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন নন্দীগ্রামে ভোটগণনার শুরু থেকেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিল বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে। কিন্তু প্রথম দিকে ব্যবধান কম-বেশি থাকলেও, শেষ অবধি বড় ব্যবধানে জয়ী হলেন শুভেন্দু অধিকারী। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, নবান্নর সামনে দলীয় পতাকা ওড়ালেন BJP কর্মী সমর্থকরা

Continues below advertisement

নন্দীগ্রামে ৯ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী শুভেন্দু  

ভোটের ঠিক আগে মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছিল তৃণমূল বলে গুঞ্জন চলেছিল রাজনৈতিক মহলে। কারণ হঠাৎ করেই বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলা সহ-সভাপতি পবিত্র কর, গেরুয়া শিবির ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে শেষ রক্ষা হল না। একুশের আবহই অক্ষত রেখে পদ্মে ফিরল নন্দীগ্রাম। মূলত এদিন সকাল থেকেই প্রাথমিক ট্রেন্ডে এগিয়ে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে শুরুর দিকে ব্যবধান অল্প হলেও পরে সেই ব্যবধান আরও বেড়ে যায়। বেলা পেরোতেই রাজ্যের সব জেলাগুলিতেই শুরু গেরুয়া ঝড়। সেই ট্রেন্ডই বজায় থাকল পূর্ব মেদিনীপুরেও।

তুরুপের তাসে শেষ রক্ষা হল না তৃণমূলের, নন্দীগ্রামে শেষ হাসি শুভেন্দুরই

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিকে একুশের ভোটের আগেই একপ্রচার সভা থেকে ঘোষণা করেছিলেন, বরাবরের চেনা ভবানীপুর নয়, তিনি লড়বেন নন্দীগ্রাম থেকেই। সেই শুরু। ভোটযুদ্ধের ময়দানে সেদিনের মাস্টারস্ট্রোক বহু প্রশংসিত হলেও, একুশের ভোটে অন্যতম চিন্তার মেঘ এনে দিয়েছিল মমতার সেই সিদ্বান্ততেই। কারণ শুভেন্দু সেবার জিতেছিলেন ওই কেন্দ্র থেকে। শেষে সেই পুরনো ঘরেই ফিরতে হয়েছিল মমতাকে। ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী প্রিয়ঙ্কা টিব্রেওয়ালের বিপরীতে উপনির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন। রক্ষা হয়েছিল শেষটায়। কিন্তু এবার আর সেই ঝুঁকি মমতা নেননি। বরং নন্দীগ্রামে সদ্য বিজেপি ছেড়ে আসা তৃণমূল যোগ দেওয়া পবিত্রকেই তুরুপের তাস করেছিল তৃণমূল। যদিও শেষ রক্ষা তাতেও হল না। বড় ভোটের ব্যবধানে শেষ অবধি জয়ী হলেন শুভেন্দু অধিকারীই। 

কোনপথে ভবানীপুর  ?

এদিকে, এবার মমতা নন্দীগ্রামে প্রার্থী পদে দাঁড়ানোর ঝুঁকি না নিলেও, উল্টে ভবানীপুরে মমতার বিপরীতে দাঁড়ানোর ঝুঁকি নিয়েছেন শুভেন্দু। যদিও ভবানীপুরে ভোট গণনা শুরু হতেই, সকাল থেকেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দিয়েছিল তৃণমূল ও বিজেপি। কিন্তু শেষদিকে মমতা স্বল্প ব্যবধানে এগিয়ে গেলে ১৪ রাউন্ড শেষে বন্ধ হয়ে যায় ভবানীপুরের ভোট গণনা। এখন ওই কেন্দ্রে কী হবে সেই কথা সময়ই বলবে।