কলকাতা: ২৯ এপ্রিল, দ্বিতীয় দফায় ভোট হয়েছে ফলতায়। কিন্তু কারচুপির নানা অভিযোগ পেয়ে শেষমেশ সেখানকার ভোটই বাতিল করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এবার ফলতা পুনর্নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু নির্বাচন কমিশনের। গতবারের তুলনায় দ্বিগুণ সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে, খবর সূত্রের। 

Continues below advertisement

আর কী কী জানা গিয়েছে নির্বাচন কমিশন সূত্রে? 

জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের যৌথ টহল চলবে তার আগে থেকে। স্পর্শকাতর এলাকা বেছে চলবে বাহিনী-পুলিশের যৌথ টহল। স্পর্শকাতর এলাকায় ওয়েব কাস্টিং চলবে। রাস্তায় জমায়েত দেখলেই নেওয়া হবে ব্যবস্থা, দেওয়া হবে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক। EVM-এ যাতে টেপ বা কোনও সুগন্ধি না লাগানো যায়, তার জন্য কড়া নজরদারি। ভোটের পর হিংসা ঠেকাতে আপাতত চালু থাকবে ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল রুম, খবর কমিশন সূত্রে। 

Continues below advertisement

অশান্তির আশঙ্কায় ভোটের অনেক আগে থেকেই নির্বাচন কমিশনের নজরে ছিল ফলতা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসাবে উত্তরপ্রদেশের IPS অফিসার অজয় পাল শর্মাকে দায়িত্ব দেয় কমিশন। যিনি আবার 'সিঙ্ঘম' পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচিত। ভোটের আগে থেকে অভিযুক্তদের খোঁজে তাঁকেও ফলতায় টহল দিতে দেখা যায়।

আরও পড়ুন, মহাকরণ নিয়ে PWD-র বিশেষ পরিকল্পনা! কোন জায়গায় বসতে পারেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রীরা?

যদিও ফলতায় ভোট নিয়ে পরপর অভিযোগ আসতে শুরু করে। বিজেপি প্রার্থী থেকে এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের মুখে উঠে আসে হুমকি, অত্যাচার, মারধরের মতো বহু অভিযোগ। 

স্ক্রুটিনির পর ফলতায় ফের ভোট করানোর ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এরপরেই নতুন করে চড়তে শুরু করে রাজনীতির পারদ। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে লেখেন- দশবার জন্ম নিলেও আমার ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এ বিন্দুমাত্র আঁচড় কাটতে পারবে না ‘বাংলা-বিরোধী গুজরাতি গ্যাং’ এবং তাঁদের হাতের পুতুল জ্ঞানেশ কুমার। যা পারো সব নিয়ে এসো। আমি পুরো ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়াকে চ্যালেঞ্জ করছি—ফলতায় এসো। তোমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী কাউকে পাঠাও, দিল্লির কোনও গডফাদারকে পাঠাও। দম থাকলে ফলতায় এসে লড়ো।

২১ মে নতুন করে ভোট হতে চলেছে ফলতা বিধানসভায়। নির্বাচন কমিশন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে ফলতার ফল ঘোষণা হবে ২৪ মে। যতবার পুনর্নির্বাচন হোক, তৃণমূলই জিতবে বলে হুঙ্কার ছেড়েছে জোড়াফুল শিবির। বিজেপি বলছে, ফলতায় কারচুপি ধরা পড়ার কারণেই ফের ভোট হচ্ছে। সোমবার ২৯৩ কেন্দ্রের রেজাল্ট প্রভাব ফেলবে ফলতায় বলে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস।