কলকাতা: ১৫ বছর পরে ফের পালাবদল। দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকারে বিজেপি। অন্যদিকে, নন্দীগ্রামের পুনরাবৃত্তি ভবানীপুরে। শুভেন্দুর কাছে ধরাশায়ী মমতা। অরূপ, সুজিত, ব্রাত্য, চন্দ্রিমা থেকে শশী, সিদ্দিকুল্লা, উদয়ন। গেরুয়া ঝড়ে কুপোকাত তৃণমূলের ২০ জন মন্ত্রী। বালু-সহ দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের হার।  

Continues below advertisement

IPAC-এর উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাই কি এই ফলের জন্ম দিল? ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন অনুষ্ঠানে এসে প্রতিক্রিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি প্রদীপ্ত মুখোপাধ্যায়ের। 

তিনি বলেছিলেন, 'তৃণমূল সিপিএম-এর বিরুদ্ধে স্বতস্ফূর্ত গণআন্দোলনের আবেগের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিল। এরপর তাকে সাংগঠনিকভাবে বাঁধার চেষ্টা করা হয়েছিল আইপ্যাক এর মাধ্যমে। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে PAC-এর উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কী হল? মদন মিত্র যে অভিযোগ করেছিলেন যে টাকা নিয়ে প্রার্থী পদ , টিকিট দেওয়া সেটিকে দলে কি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি? কিছু নেতা-নেত্রী জনসংযোগে জোর না দিয়ে ক্ষমতার বৃত্তে থাকার চেষ্টা করতে গিয়ে জন বিচ্ছিন্ন হয়েছেন। জনবিমুখতা হারের অন্যতম কারণ হতে পারে।' 

Continues below advertisement

ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন অনুষ্ঠানে এসে বিজেপির প্রতিনিধি দেবজিৎ সরকারের মন্তব্য, 'এই জয় তাঁদের যাঁরা তৃণমূলের অত্যাচার সয়েছেন। এই জয় শুধু খুন হয়ে যাওয়া বিজেপির দলীয় কর্মী বা সমর্থকদের নয়, এই জয় কাকদ্বীপে খুন হওয়া সিপিএম সমর্থক দম্পতিরও'। 

এই আইপ্যাকের হাত ধরেই সাংগঠনিক কাজ থেকে প্রচারের স্ট্র্যাটেজি হত তৃণমূলে এমনটাই ছিল সূত্রের খবর। প্রশান্ত কিশোর থেকে প্রতীক জৈন। 'বাংলা নিজের মেয়েকে চায়' থেকে 'আবার জিতবে বাংলা', তৃণমূলেরই হয়ে উঠেছিল আই প্যাক। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার সরাসরি আইপ্যাককে নিশানা করতে শুরু করেন তৃণমূলের অন্য প্রবীণ নেতারাও। ৩ ডিসেম্বর ২৪-এ তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আজ আইপ্যাকের লোক কোথায়? আইপ্যাকের লোক কোথায়? যারা সব নাম গুঁজে গুঁজে দিয়ে ক্যান্ডিডেট করেছিল, তাদের জেতানোর জন্য নামুক, আইপ্যাক কোথায়? বাজারে তো আমাকেই হাঁটতে হচ্ছে, খাটতে হচ্ছে' 

আরও পড়ুন, নবান্ন নয়, রাইটার্স বিল্ডিং থেকেই বিজেপির সরকার পরিচালনার সম্ভাবনা জোরাল?

আইপ্যাকের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। বলেছিলেন, 'আমাদের পার্টিতে এসব ছিল না। আনারি টাকা-পয়সা লেনদেন। এই একটা এজেন্সি আমাদের পার্টিতে ঢুকল'। 

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেছিলেন কোনও সমীক্ষক সংস্থা থেকে ফোন করলে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবেন না। প্রয়োজনে ফোন ধরবেন না। কিনতু, কিছুদিন যেতে না যেতেই ফের পরিস্থিতি বদলায়। গতবছর ফেব্রুয়ারিতে নেতাজি ইন্ডোর থেকে, আইপ্যাকের সঙ্গে সহযোগিতার বার্তা দিয়েছিলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়ই।  তবে কি প্রবীণ নেতাদের আশঙ্কাই সত্যি হল এবারের বিধানসভা নির্বাচনে?