West Bengal Assembly Election: পূর্বস্থলী উত্তরের এবারের তৃণমূল প্রার্থী বসুন্ধরা গোস্বামী। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পেয়েছেন বসুন্ধরা, আর তাতেই 'বিদ্রোহী' বর্তমান বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়। কারণ এবার টিকিট পাননি তিনি। টিকিট না পেয়ে অবসরের ইঙ্গিত পূর্বস্থলী উত্তরের তৃণমূল বিধায়কের। 'বিক্ষুব্ধ' পূর্বস্থলী উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় বলছেন, '৯৮ সালে যাঁরা দলে এসেছেন, তাঁরা কোনও মর্যাদা পাবেন না। যাঁরা সিপিএম, বিজেপি থেকে এসেছেন, তাঁদের দাম বেশি। প্রার্থী না করায় আমি বেঁচে গেছি, প্রয়োজনে দল থেকে অবসর নেব। প্রাক্তন বিধায়ক হয়ে গেছি, তাই আমার নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে।' টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন পূর্বস্থলী উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক।
তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই জেলায় জেলায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ শুরু হয়ে গেছে। টিকিট না পেয়ে ক্ষুব্ধ তৃণমূলের একাধিক বিদায়ী বিধায়ক। অনেক কেন্দ্রে আবার প্রার্থী পছন্দ হয়নি দলীয় কর্মীদের। মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের ২৯১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে তৃণমূল। আর তারপর থেকেই শুরু হয়ে গেছে ক্ষোভ-বিক্ষোভ। কোথাও টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক, কোথাও প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় পথে নেমে প্রতিবাদ শুরু করেছে তৃণমূল কর্মীদেরই একাংশ। টিকিট না পেয়ে চরম ক্ষুব্ধ উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙার ৩ বারের তৃণমূল বিধায়ক রফিকুর রহমান। মঙ্গলবার আমডাঙা-কাকিনাড়া রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল বিধায়কের অনুগামীরা। বুধবারও দত্তপুরের নীলগঞ্জ রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ চলে।
অন্যদিকে মিনাখাঁর তৃণমূল প্রার্থী ঊষারানি মণ্ডলকে নিয়ে ক্ষুব্ধ দলেরই একাংশ। বাসন্তী হাইওয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। অসন্তোষের ছবি দেখা গেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও। ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক সওকত মোল্লাকে এবার ভাঙড়ে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তাঁকে ফের ক্যানিং পূর্বের প্রার্থী করার দাবি তুলেছে কর্মীদের একাংশ। বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়েছে উত্তরবঙ্গেও। উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের ১১ বারের বিধায়ক আব্দুল করিম চৌধুরীকে এবার প্রার্থী করেনি তৃণমূল। অন্যদিকে টিকিট না পেয়ে রাজনৈতিক অবসর নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। জলপাইগুড়িতে আবার জেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে ছেড়েছেন ৪বারের তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়। মন্তেশ্বরে প্রার্থী হিসেবে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নাম ঘোষণার পরেই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সব মিলিয়ে ভোটের মুখে প্রার্থী-অসন্তোষ ঘিরে তুঙ্গে চাপানউতোর।
