ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, বীরভূম: পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) নির্বাচনে রক্ত ঝরল, বিজেপি (BJP)-তৃণমূল (TMC)-সিপিএম (CPIM) সব দলের কর্মীরাই আহত হয়েছেন, এবার আহত হলেন কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force)। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চালানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপরই ভরসা রেখেছিল নির্বাচন কমিশন। তবে এবার সেই কেন্দ্রীয় বাহিনীরাই আক্রান্ত হল প্রথম দফার ভোটে।  

Continues below advertisement

এদিন, দুবরাজপুরে আক্রান্ত হল কেন্দ্রীয় বাহিনী। দুবরাজপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপরে ইটবৃষ্টি চলে আচমকাই। এমনকী, দুবরাজপুরে পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। CRPF-এর উপরে ইটবৃষ্টিতে ৬ জন আহত হয়েছে বলে সূত্রের খবর।                                                          

প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (প্রায় ২.৪ লক্ষ কর্মী) মোতায়েন থাকবে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনে আজ পর্যন্ত দেশের কোনও রাজ্যে এত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়নি। নির্বাচন কমিশনের দাবি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করতেই এত সংখ্যক সশস্ত্র বাহিনী রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেও রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছিল এরাজ্যে। সাত দফায় ভোটগ্রহণের জন্য প্রায় ৯২০ কোম্পানি সিএপিএফ অর্থাৎ প্রায় ৯২,০০০ জন কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোট পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।  ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় পশ্চিমবঙ্গে আটটি দফায় প্রায় ৭২৫ কোম্পানি সিএপিএফ মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু তরপরও হিংসা কমানো যায়নি সেই বার। 

Continues below advertisement

২৩ এপ্রিলের পর থেকেই কলকাতায় ফিরে আসবে এখান থেকে জেলায় যাওয়া কেন্দ্রীয় বাহিনী। এছাড়াও আরও বাহিনী এসে পৌঁছবে কলকাতায়। লালবাজারের কর্তাদের মতে, অন্তত ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী বা আধাসেনা কলকাতায় আসতে পারে। এমনকী, নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন বোধ করলে আড়াইশো কোম্পানি পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীও আসতে পারে। প্রশাসনের লক্ষ্য, ভোটের দিন শহরে যাতে শান্তিপূর্ণ ও নির্ভয়ে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

এদিকে আজ ভোটের দিনে ভোটগ্রহণের মাঝে ভোটারদের মারধরের অভিযোগ উঠছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ রীতিমতো বাড়ির মধ্যে ঢুকে মারধর করে ভাঙচুর চালিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।