বাগদা:  বিজেপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঝামেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। এবার বাগদায়ও বিজেপির প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষের ছবি ধরা পড়েছে। সেখানে বহিরাগত প্রার্থী দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। 'বহিরাগত প্রার্থী মানছি না, মানব না' স্লোগান তুলে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন সেখানকার বিজেপি সমর্থকরা। গতকাল সন্ধেয় বাগদার হেলেঞ্চা বাজারে মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন বিক্ষুব্ধদের একাংশ। বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রে এবার জাহাজ প্রতিমন্ত্রী ও বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুরকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। তারপরই সোমা ঠাকুরকে সরানোর দাবিতে সরব বিজেপির একাংশ।  সেখানে স্লোগান উঠেছিল, 'শান্তনু ঠাকুর দূর হটো'। প্রতিবাদ মিছিলে ছিলেন বাগদার বিজেপি নেতা দুলাল বর। ভূমিপুত্র অথবা ভূমিকন্যাকে প্রার্থী না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি। 

Continues below advertisement

এর আগে নাম ঘোষণা হওয়ার পর যখন প্রচারে বেরিয়েছিলেন, তখনই তাঁকে নিয়ে যে অসন্তোষ, তার আঁচ পেয়েছিলেন সোমা ঠাকুর। প্রচারে বেরিয়ে প্রবীণ বিজেপি নেতার আশীর্বাদ চাইতে গিয়ে তাঁর ক্ষোভ টের পেয়েছিলেন বাগদার বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুর। বাগদায় বিজেপির প্রার্থী-অসন্তোষ এবার আরও তীব্র হয়ে রাস্তায় নেমে এল। উল্লেখ্য, বাগদায় এবার লড়াইটা যে 'পারিবারিক'। কারণ বাগদা বিধানসভা আসনে এবার ননদ ও বউদির লড়াই। তৃণমূল ও বিজেপির দুই প্রার্থীই গাইঘাটার মতুয়া বাড়ির সদস্য। বাগদায় তৃণমূলের প্রার্থী মমতা ঠাকুরের মেয়ে মধুপর্ণা ঠাকুর।

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল ও বিজেপি তাঁদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার পর থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়ে গিয়েছিল। প্রথম দফার তালিকা ঘোষণার পর থেকেই প্রার্থী অসন্তোষ শুরু হয়ে গেছে বিরোধী শিবিরেও। প্রথম এই অসন্তোষের ছবি দেখা গিয়েছিল আলিপুরদুয়ারে। সেখানে আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এবার পরিতোষ দাসকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। গত বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জিতেছিলেন সুমন কাঞ্জিলাল। যিনি এবার আবার পদ্ম থেকে জোড়াফুলে গিয়ে প্রার্থী হয়েছেন। তাঁকে তৃণমূল এই কেন্দ্রে প্রার্থীও করেছে। কিন্তু এই কেন্দ্রে পরিতোষ দাসকে প্রার্থী হিসাবে মানতে নারাজ সেখানকার বিজেপি কর্মীরা।

Continues below advertisement

হরিণঘাটাতেও একই ছবি দেখা গিয়েছিল বিজেপির প্রার্থী অসন্তোষের। হরিণঘাটার বিজেপি প্রার্থী বদলের দাবি তুলেছিলেন বিজেপি কর্মীরা। তাঁরা জানিয়েছিলেন যে হরিণঘাটার মানুষের জন্য বিজেপি প্রার্থী আগেরবারও প্রার্থী হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি না কি সংগঠন করেননি। তাই ফের সেই ব্যক্তি প্রার্থী হলে হরিণঘাটায় বিজেপি এমনিই হেরে যাবে।