বিনপুর : "আমার ডানদিকে দোলা সেন, আর বাঁদিকে বীরবাহা হাঁসদা...টানতে টানতে হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে, চুলের মুঠি ধরে দিল্লি পুলিশ টেনে নিয়ে গিয়েছিল। তারা আদিবাসী প্রেমের কথা বলে ?" একশো দিনের বকেয়া টাকার অভিযোগ তুলে ফের একবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে নিশানা শানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বিনপুরের সভা থেকে মোদি-শাহর বিরুদ্ধে সুর চড়ান তিনি। West Bengal Assembly Election 2026
অভিষেক বলেন, "এই জন-বিরোধী মোদি সরকার-বিজেপি সরকার গরিব মানুষের ১০০ দিনের টাকা আটকে রেখেছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় পাঁচ-সাড়ে পাঁচ বছর হয়ে গেল...১০ পয়সা ১০০ দিনের বরাদ্দের টাকা এখনও ছাড়েনি বাংলায়। যাদের কাজ করিয়ে ১০০ দিনের বকেয়া টাকা আটকে রেখেছিল...আমরা দিল্লিতে গিয়েছিলাম লড়াই করতে। এখানকার যিনি প্রার্থী হয়েছেন...আমাদের দলের বীরবাহা হাঁসদা, আমার সঙ্গে তিনিও ছিলেন। আমার এখনও মনে আছে যখন আমরা কৃষিভবনে বসে আছি, মন্ত্রী দেখা করছেন না বলে প্রতিবাদ জানিয়ে মাটিতে মেঝেতে...আমার ডানদিকে দোলা সেন, আর বাঁদিকে বীরবাহা হাঁসদা...টানতে টানতে হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে, চুলের মুঠি ধরে দিল্লি পুলিশ টেনে নিয়ে গিয়েছিল। তারা আদিবাসী প্রেমের কথা বলে ? তারা তফসিলি প্রেমের কথা বলে ? যারা একটা মহিলাকে সম্মান দিতে পারে না...। দিল্লি পুলিশ কার অধীনস্থ ? অমিত শাহর অধীনস্থ। অমিত শাহ কে ? নরেন্দ্র মোদির সহকর্মী। বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি। আজ তাঁর অধীনস্থ দিল্লি পুলিশ আদিবাসী-জনজাতি প্রতিনিধিদের টানতে টানতে হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে চুলের মুঠি ধরে নিয়ে গেছে।" এরপরই রাজ্য বিজেপির নেতাদের প্রসঙ্গ তুলে আক্রমণ শানাতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করেন তিনি। অভিষেক বলেন, "ওদের বাংলার নেতারা বড় বড় ভাষণবাজি করেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, দেবনাথ হাঁসদা, বীরবাহা হাঁসদা ? এরা আমার জুতির তলায় থাকেন। কে বলেছেন ? আমি বলিনি। বিরোধী দলনেতা বলেছেন।"
এদিন সভা থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রসঙ্গ তুলেও বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছোড়েন তিনি। অভিষেক বলেন, "আমি চ্যালেঞ্জ করব। একটা রাজ্যে যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রত্যেক পরিবারের মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিচ্ছেন, বিজেপি যদি একটা রাজ্যে করে দেখাতে পারে তাহলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আমি তৃণমূলের হয়ে আপনাদের কাছে সমর্থন চাইতে আসব না। করে দেখাক।"
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের ইস্তেহার প্রকাশের দিনই পুনরায় একবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, 'সারাজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবে।'
