অমিত জানা, পশ্চিম মেদিনীপুর: বেলদায় বিজেপি প্রার্থীর প্রচারে উত্তেজনা। নারায়ণগড়ে পথ অবরোধ। বেলদা থানার হেমচন্দ্র গ্রাম পঞ্চায়েতের রাম সরিষা এলাকার ঘটনা। বিজেপি প্রার্থী রমা প্রসাদ গিরি এলাকায় প্রচারে গেলে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েন। প্রচার চলাকালীন প্রার্থীকে লক্ষ্য করে স্থানীয় এক ব্যক্তি কুরুচিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। ক্ষুব্ধ প্রার্থী ও তাঁর অনুগামীরা রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখান। প্রার্থীর উপর হামলার অভিযোগে বেলদা থানার সামনে পথ অবরোধ বিজেপির। ঘটনার জেরে এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। গোটা ঘটনাকে 'নাটক' বলে কটাক্ষ তৃণমূল নেতৃত্বের।
আরও পড়ুন, শিলিগুড়িতে রামনবমীর শোভাযাত্রায় গৌতম দেব, তৃণমূল প্রার্থীর মুখে "জয় শ্রীরাম.." ধ্বনি
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর পর এবার পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা। বিজেপি প্রার্থীর প্রচার ঘিরে ফের তৈরি হল উত্তেজনার পরিস্থিতি। ফের বাঁধল ধুন্ধুমার! শুক্রবার, ভোটের প্রচার শুরুর আগে, বেলদার রামসরিষা এলাকায় মন্দিরে পুজো দিতে যান নায়ারণগড় বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রমাপ্রসাদ গিরি। সেখানেই স্থানীয়দের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের টাকা কেন্দ্রীয় সরকার বন্ধ করে দিয়েছে, এই অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। আর তা নিয়ে তেতে ওঠে পরিস্থিতি।
এরপর, বিক্ষোভকারী গ্রামবাসীর সঙ্গে বিজেপি প্রার্থী ও তাঁর অনুগামীদের কার্যত হাতাহাতি বেঁধে যাওয়ার উপক্রম হয়। নারায়ণগড় বিজেপি প্রার্থী রমাপ্রসাদ গিরি বলেন, ওখানে নিতাই দত্ত বলে একটা লোক, তৃণমূলের নেতা, হার্মাদ, এই ১৬ নম্বর হেমচন্দ্র অঞ্চলে, এখানে ওরা সন্ত্রাস চালিয়ে রাখে। আমাদের পতাকা ছিঁড়ে দিয়েছে। আমাদের কর্মীদের যখন তখন ধমকাচ্ছে। ঠেলাঠেলি করছে। বিক্ষোভকারী গ্রামবাসী নিতাই দত্ত বলেন, ১০০ দিনের (কাজের) টাকা তো দেননি। কেন এখানে ভোট চাইতে এসেছেন? এগুলো বলছিলাম। উনি বলছেন, আমি এসব পরে বলব। ৫ বছরে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিছু কাজ করেননি। আমরা মারামারি কিছু করিনি। প্রচারে প্রার্থীকে হেনস্থার অভিযোগ তুলে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা বেলদা থানার সামনে পথ অবরোধ করেন। টায়ার জ্বালিয়ে চলতে থাকে বিক্ষোভ। অবরোধে একের পর এক গাড়ি আটকে যাওয়ায়, বাড়তে থাকে ভোগান্তি। শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ। নারায়ণগড়ের বিজেপি প্রার্থী রমাপ্রসাদ গিরি বলেন, আমরা এখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইছি। যে সব স্পর্শকাতর বুথ আছে, আমরা বারবার প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু এখানকার কোনও প্রশাসন কানে তোলে না। নারায়ণগড়ের যুব তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি সুভাষ রায় চৌধুরী বলেন, মানুষের ওপর চড়াও হয়ে এই রাস্তায় বসে নাটক করছে। বিজেপি এখানে হালে পানি পাচ্ছে না। মানুষ বিজেপিকে প্রত্যাহার করছে। এর সঙ্গে আমাদের দলের কোনও সম্পর্ক নেই। ' নারায়ণগড় বিধানসভা কেন্দ্রে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। জয়ের হাসি কে হাসবেন, জানা যাবে ৪ মে।
