কলকাতা: ভোটের আগে ফের তুলকলাম কাণ্ড বাংলায়। একবালপুরে তৃণমূল বনাম বিজেপি সংঘাতে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি একবালপুরে। অভিযোগ, তৃণমূলের লোকেরা হুসেন শাহ রোডে বিজেপির মঞ্চে হঠাৎ হামলা চালায়। তারপরই রণক্ষেত্র চেহারা নেয় সেখানকার পরিস্থিতি। হামলার অভিযোগে থানার সামনে বিজেপি বিক্ষোভ শুরু করে। লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দেয় পুলিশ। কয়েকজন বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন। ধাওয়া করে তৃণমূলকর্মীদেরও থানার সামনে থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ। 

Continues below advertisement

তৃণমূল-বিজেপি সংঘাতে রণক্ষেত্র একবালপুর। তৃণমূলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে বিজেপির কর্মীরা থানা ঘেরাও করে। কলকাতা বন্দরের বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিংয়ের নেতৃত্বে এই ঘেরাও হয়। পাল্টা একবালপুর থানায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও ঘেরাও করে। তৃণমূলের অভিযোগ, 'মঞ্চ থেকে প্ররোচনামূলক বক্তব্য দেয় বিজেপি, তারই প্রতিবাদ করে তারা। বিজেপির উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদে সরব সাধারণ মানুষও। 

কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল?

Continues below advertisement

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার সন্ধা বেলা থেকে। হুসেন শাহ রোডে বিজেপির একটি পথ সভা ছিল। খুব ছোটো একটি পথ সভার আয়োজন করেছিল বিজেপি। বক্তব্য রাখতেন বিজেপির প্রার্থী রাকেশ সিংয়ের। কিন্তু অভিযোগ, রাকেশ সিং আসার আগে, স্থানীয় কয়েকজন নেতা সেই সভা থেকে বক্তব্য রাখেন। তৃণমূলের তরফ থেকে অভিযোগ আনা হয়, এই সভা থেকে প্ররোচনামূলক মন্তব্য করেন তাঁরা। আর এর প্রতিবাদ করেন কয়েকজন। এরপর রাকেশ সিং আসতেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তারপর পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। মুখোমুখি সংঘর্ষ শুরু হয় বিজেপি-তৃণমূলের। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামে বিশাল পুলিশ বাহিনী।  

রাকেশ সিং একবালপুর থানার সামনে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ শুরু করেন। সঙ্গে ছিলেন প্রায় ১০০ জনের কাছাকাছি কর্মী সমর্থকরা। তাঁদের দাবি ছিল যারা হামলা করল, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং গ্রেফতার করতে হবে। গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত তিনি উঠবেন না। ঠিক সেই সময় পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বাবলু করিম-এর নেতৃত্বে থানা ঘেরাও ও অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা। থানার একদিকে বিজেপি, অন্যদিকে তৃণমূল। এরপর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। লাঠিচার্জে কয়েকজন বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন। ধাওয়া করে তৃণমূলকর্মীদেরও থানার সামনে থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ। রক্তাক্ত অবস্থায় আহত হওয়া কর্মীদের SSKM হাসপাতালের দিকে রওনা দেন রাকেশ সিং। মাথায় আঘাত লাগে বহুজনের।  

রাকেশ সিং জানান, '' প্রায় ২০০ জন লোক মিলে মিনি পাকিস্তান জিন্দাবাদ, মিনি পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলছিল। আমি যাওয়ার পর, আমিও হেনস্থা হয় সেখানে।''