অর্ণব মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : ২০২১-এ প্রথমবার বিধানসভায় যাওয়া। এবারও কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্র থেকে তাঁর উপরে ভরসা রেখেছে দল। তাঁর লড়াই বিজেপির রীতেশ তিওয়ারি, বামেদের রাজিন্দর গুপ্তাদের সঙ্গে। কাশীপুর বেলগাছিয়া কি থাকবে অতীন ঘোষের হাতেই? উত্তর মিলবে ৪ মে। 

Continues below advertisement

তিনি নানা ভূমিকায়। দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর। কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র। ২০২১-এ প্রথমবার বিধানসভায় যাওয়া। এবারও কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্র থেকে তাঁর উপরে ভরসা রেখেছে দল। অতীন ঘোষ বলছেন, "মা মাটি মানুষের সরকার নানারকম প্রতিকূলতা, কেন্দ্রীয় অসহযোগিতা সত্ত্বেও সারা বাংলার সামগ্রিক উন্নয়নের কাজ করেছে।  সেই বিষয়গুলো তুলে ধরব। দ্বিতীয়ত,  গত ৫ বছর এই বিধানসভা কেন্দ্রে রাজ্য সরকার, পৌরসভা, বিধায়ক প্রকল্প, সাংসদ প্রকল্প নিয়ে আমরা যে কাজ করেছি তার ওয়ার্ড-ওয়াইজ আমরা পুস্তিকা প্রকাশ করছি। প্রত্যেকটা ওয়ার্ড-ওয়াইজ চিত্র তুলে ধরব। আগামী ৫ বছর কী কাজ করব সেটাও মানুষের কাছে তুলে ধরব।"   

খুব অল্প বয়সেই কাউন্সিলর। সাধ্যমতো সবার কাজ করে দেওয়ার চেষ্টা করতেন। তাই অল্পদিনেই হয়ে ওঠেন এলাকাবাসীর প্রিয়পাত্র। হুডখোলা গাড়িতে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে একেবারে বর্ণাঢ্য প্রচার। অতীন ঘোষের স্ত্রী ঝুমা ঘোষ বলেন, "দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে দেখছি একই জিনিস। অতীনদা ২০০% জিতছে।" 

Continues below advertisement

শ্যামবাজার হাইস্কুলের প্রাক্তনী। ১৯৯২ সালে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জেরে একদা রাজনৈতিক গুরু অজিত পাঁজাকে ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের পাশে। তারপর থেকেই দলনেত্রীর আস্থাভাজন। এবার তাঁর প্রতিপক্ষ বিজেপির রীতেশ তিওয়ারি। বামেদের রাজিন্দর গুপ্তা। অতীন ঘোষের কথায়, "নির্বাচনে লড়াই করছি, প্রার্থী যে-ই হোক, জয়ের নিশ্চিত ভাবনা নিয়ে লড়াই করছি। প্রার্থী যে-ই হোক, সেটা নিয়ে ভাবছি না।" 

এই কাশীপুর বেলগাছিয়া কেন্দ্রের মধ্য়েই পড়ে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। তার রোগীকল্য়াণ সমিতির সদস্য় অতীন ঘোষ। ২০২৪-এ ডিউটিরত অবস্থায় চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় আলোড়ন পড়ে যায়। এরমধ্য়েই লিফট বিপর্যয়ে মৃত্যু। অতীন ঘোষ বলেন, "অভয়ার ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। লিফ্ট। স্থানীয় প্রশাসনের চূড়ান্ত ব্যর্থতা। এ সম্বন্ধে কোনও সন্দেহ নেই। বর্তমান নিয়মে এখন প্রিন্সিপাল রোগীকল্যাণ কমিতির সভাপতি এবং এমএসভিপি হচ্ছেন রোগীকল্যাণ সমিতির কনভেনর। কিন্তু, গত দেড় বছরে এই কমিটি হয়েছে নতুন। রাজ্য সরকারের নতুন নিয়মে। সেই কমিটির মাত্র দুটো ২ মিটিং হয়েছে। গত সপ্তাহে আমি জরুরি মিটিং ডাকতে বলেছিলাম। তারমধ্যে এই দুর্ঘটনা। অভয়ার ঘটনার কোনও প্রভাব পড়বে না। এই কারণে মনে করি, অভয়ার ঘটনা মর্মান্তিক। সত্যি দুর্ভাগ্যজনক। রাজ্য সরকার  দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছিল। কিন্তু, পুরো বিষয়টি এখন সিবিআইয়ের হাতে।"

এবার কী হবে? কাশীপুর বেলগাছিয়া থাকবে অতীন ঘোষের হাতেই? নাকি ভোটের ফলে থাকবে অন্য চমক? উত্তর মিলবে ৪ মে।