মানিকচক: শনিবার মানিকচকে নির্বাচনী জনসভা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই সভা থেকেই ফের আক্রমণ শানালেন বিজেপিকে। লোডশেডিং, EVM মেশিন থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা কেড়ে নেওয়া, এই সব অভিযোগ এনে বিজেপিকে আক্রমণ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এর পাশাপাশি রাজ্যের মানুষদের কিছু বিষয় নিয়ে সাবধানও করেন তিনি।
মানিকচকের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, '' আমি জানি নির্বাচনের সময় অনেক টাকা আসে। মা-বোনেরা সাবধান, ভাই-বোনেরা সাবধান। বিজেপি কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নাম করে মিথ্যে কথা বলে, তৃণমূলের নাম করে, আপনার বাড়ি গিয়ে বলতে পারে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরটা দিন আমরা টাকা ঢোকাবো। ভুলেও দেবেন না। যেটুকু আছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে সেটাও নিয়ে নেবে। এটা হচ্ছে এদের পরিকল্পনা। এটা হচ্ছে ওদের চক্রান্ত। প্রথম ভোট কাটবে, দ্বিতীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করবে, তৃতীয় ভোটের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে গ্রামে গ্রামে মানুষ আটকানোর চেষ্টা করবে। যাতে মানুষ ভোট বাক্সে পৌঁছতে না পারে। ভাল করে লক্ষ রাখবেন।''
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা কেড়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের গণনার দিন কি হতে পারে, সেই বার্তাও দিয়েছেন। তিনি বলেন, '' গণনার চার দিন যদি লোডশেডিং করে দেয়, কেন্দ্রীয় বাহিনী যদি ঢুকতেও না দেয়, মা-বোনেরা এই চারদিন রাত জেগে পাহারা দেবেন।''
উল্লেখ্য, মানিচকের পাশাপাশি শনিবার মালতীপুরেরও জনসভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সভা থেকেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে বার্তা দেন তিনি। বলেন, '' তৃণমূলকে, জোড়াফুলকে ভোট দিলে সারাজীবন আপনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবেন। কারও কাছে হাত পাততে হবে না আপনাকে। যুবসাথী অনেকেই টাকা পেয়ে গিয়েছেন। বাকি যাঁরা আছেন, দরখাস্ত করেছেন, তাঁরাও পেয়ে যাবেন। প্রক্রিয়া চলছে। তাঁদের জীবিকার সন্ধান আমরাই করে দেব।" জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো আরও জানান, "আমরা বলেছিলাম, বিনাপয়সায় খাদ্য দেওয়া হবে, আপনারা রেশন পান কি পান না? বলেছিলাম, মহিলা অভিভাবককে দায়িত্বে রেখে ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেওয়া হবে। পেয়েছেন কি না? ছেলেমেয়েরা সাইকেল, মিড ডে মিল, স্মার্ট ফোন, স্কুল ড্রেস পায় কি পায় না?'' কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, "১ কোটি ২০ লক্ষ কাঁচা বাড়ি আমরা পাকা করেছি। কেন্দ্র টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। পাঁচ বছর ধরে টাকা দেয় না বাংলাকে। কাঁচা বাড়ি, রাস্তা তৈরি, জল স্বপ্ন, সর্বশিক্ষা মিশন, ১০০ দিনের কাজের টাকা দেয় না। ২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি পাই আমরা কেন্দ্রের কাছে। তাও আমরা কোনও প্রকল্প বন্ধ করিনি।"
