ডেবরা: হাতে আর মাত্র কয়েকদিন। ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশের পর থেকেই জোর কদমে ময়দানে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। প্রার্থীদের পাশাপাশি, এক বিন্দু সময় নষ্ট না করে প্রচারে ব্যস্ত বাংলার রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েটরাও। 'কথার' আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে বঙ্গ ভোটের ময়দান যেন একেবারে জমে উঠেছে। সোমবার ডেবরায় জনসভা করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। আর এই সভা থেকে গত সপ্তাহে বিজেপির প্রকাশ করা ‘চার্জশিট’ নিয়ে অমিত শাহকে কড়া ভাষায় জবাব দিলেন তিনি। 

Continues below advertisement

সোমবারের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, 'সবাইকে লাইনে দাঁড় করাবে, আর নিজেরা লুটে-পুটে খাবে। আর বলছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট?' ' আমি বলি, প্রথম চার্জশিট মোদি আর অমিত শাহর বিরুদ্ধে হওয়া উচিত।'

জনসভার স্টেজ থেকে তিনি বলেন, '' বিজেপির সরকার এতো বজ্জাত, আমি জীবনে দেখিনি। এতো অত্যাচার আমি জীবনে দেখিনি। এতো স্বৈরাচার আমি জীবনে দেখিনি, এতো অনাচার আমি জীবনে দেখিনি। 'সবাইকে লাইনে দাঁড় করাবে, আর নিজেরা লুটে-পুটে খাবে। আর বলছে কি তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট?' ' আমি বলি, প্রথম চার্জশিট মোদি আর অমিত শাহর বিরুদ্ধে হওয়া উচিত। যারা দাঙ্গা লাগিয়ে, দাঙ্গা করে ক্ষমতায় এসেছে।'' 

Continues below advertisement

তিনি আরও বলেন, '' হিন্দু মুসলমান ভাগাভাগি, আইপিএস আইপিএস-এ ভাগাভাগি, আইএস আইএস-এ ভাগাভাগি, ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ সার্ভিসে ভাগাভাগি, ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিসে ভাগাভাগি, প্রশাসনেও ভাগাভাগি? কোনওদিন ছিল না। আরে এরা তো কাজ করে, এরা আমাদের সম্পদ। আর আজকে বিজেপির ক্যাসেট হচ্ছে সবাইকে ভাগাভাগি করে ভুলিয়ে রেখে দাও। তারা যাতে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করে, যুদ্ধ করে, আর এই সুযোগে বিজেপি যেন দেশটাকে লুটতে পারে। আর ওদের টার্গেট হচ্ছে বাংলাকে বাদ দাও। বাংলা রাজ্যকে তুলে দাও। আমরা বলি বাংলাকে বাদ দেওয়া যাবে না। বাংলাকে রাখতে হবে। বাংলা আমাদের গর্ব। বাংলা আমাদের স্বাধীনতা। বাংলা আমাদের নবজাগরণ। '' উল্লেখ্য, ২৮ মার্চ, শনিবার বঙ্গে এসে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে 'চার্জশিট' পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মূলত তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে একটি ৩৫ পাতার ‘চার্জশিট’ প্রকাশ্যে আনেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, তৃণমূল যতই বলুক এই চার্জশিট বিজেপির চার্জশিট, কিন্তু এটা আসলে বাংলার মানুষের চার্জশিট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে এই চার্জশিট। তিনি জানান, 'তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এই ৩৫ পাতার চার্জশিট।'