কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা : ভোটের ছুটোছুটি থেকে অনেক দূরে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য় সভাপতি তথাগত রায়। এক সময়ে ভোট এলে ব্য়স্ততার শেষ থাকত না। এখন দূর থেকেই নজর রাখছেন দলের কাজকর্মে।
একটা সময়ে রাজ্য় বিজেপির রাশ ছিল তাঁর হাতে। ভোট এলে ব্য়স্ততার শেষ থাকত না। প্রার্থী বাছাই, প্রচার, ছুটোছুটি--- সব মিলিয়ে দম ফেলার ফুরসত থাকত না। এখনও সামনেই হাইভোল্টেজ বিধানসভা ভোট। কিন্তু, সেই ব্য়স্ততা থেকে অনেক দূরে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য় সভাপতি তথাগত রায়। তবে দূর থেকেই নজর রাখছেন দলের কাজকর্মে।
বিজেপি নেতা তথাগত রায় বলছেন, "ছাব্বিশের নির্বাচনে আমি নিশ্চিত যে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে এবং বিজেপি সেই লক্ষ্যে অবিরত কাজ করে যাচ্ছে। প্রাণপণ কাজ করে যাচ্ছে। বিজেপিতে ২০২১ সালে যে কিছু নোংরা ঢুকেছিল সেই নোংরাগুলোকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সবকিছুর ফলে বিজেপি আজকে একটা নতুন রূপ পরিগ্রহ করেছে। যেটা আমার চোখে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং অত্যন্ত বাঞ্ছনীয়।"
একবার কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্র, আরেকবার, কলকাতা দক্ষিণ থেকে ভোটে লড়েছেন। কোনওবারই জিততে পারেননি। তবে ক্ষুরধার আক্রমণে তাঁকে হারানো আজও কঠিন। বিজেপি নেতা বলেন, "লালু যাদবেরও এর চেয়ে বেশি নীতিপরায়ণতা আছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও নীতি নেই। আজ ডায়ে কাল বামে, পরশু উপরে, তারপরের দিন নীচে...শুধু ক্ষমতায় আসতে হবে।"
নিজের দলকেও ছেড়ে কথা বলেননি তথাগত রায়। একুশের বিধানসভা ভোটের পর বিজেপি নেতাদের একাংশের সম্পর্কে তাঁর কামিনী-কাঞ্চন মন্তব্য তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। যে দিলীপ ঘোষকে রাজ্য় বিজেপির অন্য়তম সফল সভাপতি বলে ধরা হয়, তাঁকেও তথাগত রায় দরাজ সার্টিফিকেট দিতে নারাজ। তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নেতৃত্বে আছেন, তাঁদের নিজেদের মধ্যে কোনও মৌলিক বিরোধ নেই এবং তাঁরা সবাই হাতে হাত মিলিয়ে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করছেন। তারমধ্যে প্রধানত ৩ জন। শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী এবং সেইসঙ্গে আছেন সুকান্ত মজুমদার।"
এবিপি আনন্দ- দিলীপ ঘোষকে আপনি দৌড়ে রাখতে রাজি নন? উত্তরে বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা বলেন, "দিলীপ ঘোষকে তো ঠিক এর মধ্য়ে ফেলা যাচ্ছে না। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি বলেই যে কাউকে একটা রাজনৈতিকভাবে বিশাল জায়গায় রাখতে হবে অমন তো নয়। তাঁকে সম্মান দিতে হবে এই অবধি।"
তথাগত রায়ের নিজের ভাই সৌগত রায় তৃণমূলের সাংসদ। যিনি তৃণমূলে এখন পুরোপুরি সক্রিয়। কিন্তু, তার ফাঁকে ভাইয়ে ভাইয়ে কী কথা হয়? তথাগত বলেন, "ভাই তো বাড়িতে । আমি তো ম্যাচিওর লোক। আমার যা বয়স হয়েছে, আর সৌগতর যা বয়স হয়েছে, তাতে তো এরকম ধরনের কিছু হওয়া উচিত নয়। রাজনৈতিক প্রশ্নে আমি কখনোই আপোস করব না। সৌগতও আশা করি করবে না। কিন্তু, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ব্যাপার তো অন্য। রাজনৈতিক কথা একদম হয় না। একটাও হয় না।"
বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবেড়িয়ায় পূর্বপুরুষের ভিটে। সেখানকার মাটি কৌটোয় ভরে রাখা ঘরের কোণে। ঘরের দেওয়ালে শেখ হাসিনার সঙ্গে বার্তালাপের মুহূর্ত ফ্রেমবন্দি।বিজেপি যখন বাংলাদেশি ইস্য়ুকে হাতিয়ার করে ভোটে নামছে, তখন এসবের মধ্য়েই দিন কাটাচ্ছেন একদা ব্য়স্ত তথাগত রায়।
