বহরমপুর: বহরমপুরে গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর ও তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি ভীষ্মদেব কর্মকার। ঘটনাক্রমে, তিনি আবার তৃণমূল কাউন্সিলারও। শনিবার তাঁকে গ্রেফতার করে বহরমপুর থানার পুলিশ। ৪ এপ্রিল অধীর চৌধুরীর (Adhir Ranjan Chowdhury) প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ভীষ্মদেব কর্মকারের বিরুদ্ধে। মামলাও হয় তাঁর বিরুদ্ধে। আজ তাঁকে তোলা হবে বহরমপুর আদালতে। 

Continues below advertisement

৪ঠা এপ্রিল অধীর রঞ্জন চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারের মাঝে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ উঠে এই ভীষ্মদেবের বিরুদ্ধে। স্লোগান, পাল্টা স্লোগান থেকে ধ্বস্তাধ্বস্তি করতে দেখা যায় দুই দলের সমর্থকদের। সেইদিন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অধীরকে বাঁধা দেওয়া এবং তাঁর মিছিলের ওপর মারধরের অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার জেরেই গতকাল রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছিল ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলারকে। আজ মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাঁর মেডিক্যাল করানো হয়।

Continues below advertisement

মেডিক্যাল সম্পূর্ণ হওয়ার পরে ভীষ্মদেবকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তৃণমূল নেতার এই গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহরমপুরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার মাসখানেক পরে পুলিশের তরফে হঠাৎই তৃণমূল নেতাকে এই গ্রেফতার করাকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ভোটপরবর্তী বঙ্গে ভীষ্মদেবই প্রথম নন, আরও একাধিক তৃণমূল নেতা, কর্মীদের বিভিন্ন আইনবিরোধী কার্যকলাপের জন্য গ্রেফতার হচ্ছেন। ভোটপরবর্তী যেখানে বিভন্ন জায়গায় অশান্তির হালকা পাতনা খবর সামনে উঠ এসেছে।

শমীক ভট্টাচার্য ইতিমধ্যেই বার্তা দিয়েছিলেন যে তৃণমূলের যে সব কর্মীরা বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে অশান্তি ছড়াচ্ছেন, তাঁদের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেভাবে হিংসার ঘটনা ঘটছে, তা যেন কড়া হাতে দমন করা হয়, তাই নিয়ে একেবারে অভিযোগ জানিয়ে এসেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তিনি জানিয়েছেন, 'বিজেপির তৃণমূলীকরণ হবে না, ২জন কর্মী নিহত। আমরা জিতেছি, উল্টো ফল হলে ২০০জন খুন হতে। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে গেরুয়া আবীর লাগিয়ে তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল। তৃণমূলের কর্মীরাই রাতারাতি বিজেপির পতাকা নিয়ে হামলা চালাচ্ছে। কেউ অফিস দখল করলে দল থেকে তাড়িয়ে দেব।' ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস রুখতে কড়া বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের। তিনি আরও বলেছিলেন, 'ভয়ের বদলে ভরসার গ্যারান্টি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সাম্প্রদায়িত্ব অশান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে, আমাদের নজর আছে। আমরা ঘোষণা করেছিলেন, মহাকরণ থেকে সরকার চলবে। কিন্তু মহাকরণ কী অবস্থায় আছে, তা দেখবেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।'