হুগলি, উত্তরপাড়া : ২৯-এ পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোট। হাতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের কেন্দ্রের পাশাপাশি দলের বাকি প্রার্থীদের হয়েও প্রচারে নেমেছেন। শনিবার উত্তরপাড়ায় জনসভা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এই সভা থেকেই অমিত শাহের 'ঝুলিয়ে দেওয়া হবে, টাঙিয়ে দেওয়া হবে' কথা নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কেন কমিশন এই সব কথার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এপ্রিলের শেষ লগ্নে এসে যেমন দিন দিন তাপপ্রবাহের পারদ চড়ছে। ঠিক তেমনি উল্টোদিকেও, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। শেষ দফার ভোটের আগে ভোটের প্রচারে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়ছে না। তাই শাসক-বিরোধী উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাচ্ছে। প্রতিটি সভা থেকে বিজেপি যেমন নিশানা করছে তৃণমূলকে, তেমনি পাল্টা দিয়ে বিজেপিকে নিশানা করছেন অভিষেক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরপাড়ার জনসভা থেকে তৃণমূলনেত্রী অমিত শাহের 'ঝুলিয়ে দেওয়া' মন্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন তৃণমূলনেত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ''অমিত শাহের হিংসাত্মক মন্তব্যের জন্য আমরা তাঁর বিরুদ্ধে আইনি মামলা করব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি এমন মন্তব্য করতে পারেন না।" 

তৃণমূল সুপ্রিমো জানান, '' জিজ্ঞেস করুন আপনি মিটিং-এ দাঁড়িয়ে কি করে বলছেন ঝুলিয়ে দেওয়া হবে, পা উপরে, মাথা নিচে। আপনি হিংসার কথা বলছেন, সন্ত্রাসের কথা বলছেন। কিন্তু আমি জানি এদের বিরুদ্ধে কেউ কোনও ব্যবস্থা নেবে না। কিন্তু আইনজীবী যারা আছেন, তাদের আমি বলব, ভিডিও আমার কাছে আছে, আমি দেবাঞ্জনকে দিয়েছি। আপনারা কেস করবেন। এটা একটা অপরাধ, এই কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলতে পারেন না। আমি যেমন বলতে পারি না, অন্যরাও বলতে পারে না। আইন সবার জন্য এক।  এর পাশাপাশি 'বহিরাগত'-তত্ত্বেও শান দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনসভা থেকে সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, "বাইরে থেকে লোক আসছে। যত মিটিং ওরা করে জেনে রাখুন, সব ট্রেনের করে লোক নিয়ে আসে। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি। লোকাল লোক থাকে না। লোকাল লোক একশো থাকলে, ৯০০ লোক বাইরের। সব ট্রেনে করে লোক নিয়ে আসে, আর বাসে করে লোক নিয়ে আসে। কাল আমার কনস্টিটিউয়েন্সিতেও কয়েকটা বাস ঢুকেছিল। খুব ভাল করে মিষ্টি খাইয়েছি। বলেছি, আবার খাওয়াব। যা যা চায় সব খাওয়াব।"