West Bengal Assembly Election 2026: কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে রাজ্য মুড়ে ভোট করাতে চায় কমিশন। নির্বাচনের কাজে যুক্ত আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করতে CEO দফতরে প্রায় প্রতিদিনই হচ্ছে দফায় দফায় বৈঠক। কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, কোনও বুথে ওয়েবকাস্টিং আধঘণ্টার বেশি বন্ধ থাকলেই সেখানে হবে পুনর্নিবাচন। পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকায় নজরদারিতে এবার ৩৬০ ডিগ্রি মুভিং রোবট ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 

Continues below advertisement

ভোট ঘোষণার আগেই রাজ্যে এসে গেছে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। চলছে টহলদারি। ক্যাম্প করে চলছে নাকা চেকিং। এই মুহূর্তে রাজ্যে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, ধাপে ধাপে আসতে চলেছে আরও ২ হাজার কোম্পানি। সেই হিসেব অনুযায়ী, ভোটে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের সংখ্যা পৌঁছতে পারে আড়াই লক্ষে। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরই রাজ্য় পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে শুরু করে খোলনলচে বদলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ‍্য পুলিশের DG, কলকাতার পুলিশ কমিশনার, ADG আইনশৃঙ্খলা, পুলিশের নোডাল অফিসার, কেন্দ্রীয় বাহিনী কো-অর্ডিনেটর-সহ ভোটের কাজে যুক্ত বিভিন্ন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের সঙ্গে জেলাশাসক অর্থাৎ জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের মধ্যে একটা 'ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম' তৈরির কথা বলা হয়েছে। 

এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে বিভিন্ন এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর দায়িত্বে থাকা জেলা কো-অর্ডিনেটর এবং পুলিশ। এই 'ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম' ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে। এবার ১০০ শতাংশ বুথেই থাকছে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা। বুথের বাইরেও চলবে নজরদারি। প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে ড্রোন। কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যজুড়ে ৮০ হাজার ৭১৯টি বুথের ভিতর ও বাইরে মিলিয়ে ২ লক্ষ সিসি ক্যামেরা ও ওয়েবক্যামে চলবে নজরদারি। কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, কোনও বুথে ওয়েবকাস্টিং আধঘণ্টার বেশি বন্ধ থাকলেই সেখানে পুনর্নিবাচন করতে হবে। পাশাপাশি FST ও QRT গাড়িতে ৩৬০ ডিগ্রি PTZ ক্যামেরা-সহ লাইভ স্ট্রিমিং চলবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের দেওয়া হবে বডি ক্যামেরা। সব ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ থাকবে কমিশনের কন্ট্রোল রুমে। 

Continues below advertisement

সূত্রের খবর, শুক্রবার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক ও পুলিশ সুপারদের নিয়ে বৈঠকে কড়া বার্তা দিয়েছে কমিশন। বলা হয়েছে, ভোটারদের হুমকি দেওয়া বা ভোট দিতে আটকানোর মতো অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে সরিয়ে দেওয়া বা সাসপেন্ডও করা হতে পারে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের আওতায় কঠোরতম শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করতে পারে কমিশন। সেকথাও স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে। আড়াই লাখ বাহিনী আর দুই লাখ সিসিটিভির নজরদারিতে ভোট। সেনসিটিভ এলাকায় প্রত্যন্ত এলাকায় নজরদারিতে এবার ৩৬০ ডিগ্রি মুভিং রোবট ব্যবহার করার পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের। ২১-এর বিধানসভা ভোট-পরবর্তী হিংসায় জড়িত দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে, তাদের থেকে আর কোনও অশান্তিতে তারা জড়াবেন না, এই মর্মে মুচলেকা নিতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।