ভাঙড় : 'কাল থেকে সারা রাত ধরে তাণ্ডব চলেছে। গোটা রাত কেউ ঘুমাতে পারেনি বাড়িতে।' শেষ দফার ভোটে শেষ মুহূর্তে এসে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন ভাঙড়ের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সওকত মোল্লা।

Continues below advertisement

ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। সামগ্রিকভাবে কী দেখলেন ? এই প্রশ্নের উত্তরে সওকত বলেন, "অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় ভোট হয়েছে। ভাঙড়বাসীকে প্রথমে আমি ধন্য়বাদ জানাই। পাশাপাশি পুলিশের অতি সক্রিয়তা। গতকাল থেকে যেভাবে বেছে বেছে তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে আক্রমণ করা হয়েছে, ভাঙচুর করা হয়েছে কেন্দ্রীয়বাহিনীকে নিয়ে, আমাদের কর্মীদের যেভাবে মারধর করা হয়েছে...এভাবে। তাঁদের কোনও অপরাধই ছিল না। মারধর করা হয়েছে। আমাদের আজ অন্তত ৩০ জন কর্মীকে তুলে নেওয়া হয়েছে । পোলিং এজেন্ট, বুথ সভাপতি, কিংবা পঞ্চায়েতে নির্বাচিত সদস্য। বিনা দোষে তাঁদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যেভাবে মারধর করা হয়েছে...। একজন মহিলাকে আমরা এখনই পিজি-তে পাঠিয়েছি। অচেতন হয়ে গেছেন। আইএসএফ আশ্রিত সমাজ-বিরোধীরা মেরেছে। আমাদের ১৩২ নম্বর বুথে। কাল থেকে সারা রাত ধরে তাণ্ডব চলেছে। গোটা রাত কেউ ঘুমাতে পারেনি বাড়িতে। নির্বাচন কমিশন, তার নির্দেশ আছে নাকি ! এই ধরনের কথা বলছে পুলিশের লোকেরা। যে, দেখে দেখে বেছে বেছে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকেদের তোলা হবে। অদ্ভূত বিষয়। রাজনৈতিক জীবনে কখনো দেখিনি । কখনো শুনিনি। পুলিশ একেবারে তাঁবেদার হয়ে গেছে। গোলাম হয়ে গেছে। আরও আশ্চর্যের বিষয়, এনআইএ-কে নামিয়ে দেওয়া হল ভোটের দিনে।"

Continues below advertisement

প্রসঙ্গত, কোথাও যাতে অশান্তি না হয় তারজন্য প্রথম থেকেই সক্রিয় ছিল নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয়বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। কিছু কিছু জায়গায় অবশ্য অন্য অভিযোগও উঠেছে। সব মিলিতে শেষ দফায় বেশকিছু জায়গায় অশান্তির খবর পাওয়া গেছে। শুধু এদিনই নয়, আগের রাতেও উঠেছে অভিযোগ। ভোটের আগের রাতে ভাঙড়ে উত্তেজনা ছড়ায়। ভাঙড় ২ নম্বর ব্লকের কোচপুকুর এলাকায় ISF কর্মীদের ওপরে হামলার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ISF-এর অভিযোগ, ভোটপ্রচারের নামে, সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিল তৃণমূল। তার প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের ওপরে চড়াও হয় তৃণমূল। ISF কর্মীদের বেধড়ক মারধর করা হয়। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন এক মহিলা সহ মোট ৪ জন ISF কর্মী। আহতদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় জিরানগাছা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।