মোথাবাড়ি : মালদার মোথাবাড়িতে গাড়ির ওপর উঠে উস্কানিমূলক বক্তৃতা দেওয়ার অভিযোগ। CID-র হাতে পাকড়াও হলেন অভিযুক্ত মোফ্ফাকারুল ইসলাম। এদিন সকালে বাগডোগরা এয়ারপোর্ট থেকে তাঁকে ধরা হয়। তাঁর সঙ্গে এক সঙ্গী ছিলেন। তাঁকেও পাকড়াও করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। মোথাবাড়ির ঘটনার পর দেখা যায় ওই ব্যক্তি গাড়ির ওপর উঠে বক্তব্য রাখছিলেন। সেখানে তিনি উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়। মোফ্ফাকারুলের খোঁজ শুরু করে পুলিশ। কিন্তু, খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি পালাচ্ছিলেন বলে এজেন্সির দাবি। এদিন সকালে অবশ্য তাঁকে পাকড়াও করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গের আইজি বলেন, "পরশু যে ঘটনা ঘটেছে...গতকালও রাস্তা অবরোধ হয়েছে...। সেগুলো নিয়ে মালদা জেলায় ১৯টি কেস হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ জন গ্রেফতার হয়েছে এখন অবধি। তাছাড়া আমরা মোফ্ফাকারুল ইসলাম নামে একজন...সম্ভবত আইনজীবী...ইটাহার থানার বাসিন্দা...উনি মূলত প্ররোচনা দিচ্ছিলেন। ওঁর নামে কালিয়াচক থানায় তিনটি কেস হয়েছে। মানুষকে প্ররোচনা দিতে দেখা যাচ্ছিল তাঁকে। ওঁকে আমরা আজ সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে আটক করেছি। আমরা সিআইডিকে অনুরোধ করলাম। জাস্ট কিছুক্ষণ আগে ডিটেইন করেছি। আমরা ছবি শেয়ার করব আপনাদের সঙ্গে। ওঁর সঙ্গে আর একজনকে ছিলেন। সম্ভবত, তাঁরা বেঙ্গালুরু পালানোর চেষ্টা করছিলেন। ওঁদের আটক করা হয়েছে। আমাদের কেসে নেব। কালিয়াচকের তিনটি কেসে ওঁর নাম আছে। বাকি জায়গাগুলোতে যে কেস আছে তাতে নাম আছে কি না সেই অনুযায়ী অ্যাকশন নেব। এখন পর্যন্ত মোফ্ফাকারুল ইসলাম এবং আক্রামূল বাগানি, এই দুইজনকে আমরা আটক করেছি। বাগডোগরায় আমাদের টিম যাবে নিয়ে আসার জন্য। এই দুইজনকে জুড়লে মোট ৩৫ জন গ্রেফতার।"
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বুধবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মালদহের মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকা। বিক্ষোভের নামে চলে তাণ্ডব। এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারককে কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভিতর গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রাখা হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসআইআর-এর কাজ করছিলেন এই জুডিশিয়াল অফিসাররা। আর তাই ক্ষোভে ফেটে পড়ে কড়া পর্যবেক্ষণ করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, SIR প্রক্রিয়ায় যাঁদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া করা হয়েছে, সেই বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা আমাদেরই পক্ষে ও আমাদের হয়ে কর্তব্য পালন করছেন। অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করছেন, এমনকী শনি ও রবিবারও তাঁরা কাজ করছেন। এটি (মোথাবাড়ির ঘটনা) কোনও সাধারণ ঘটনা নয়; এটি বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং সুপ্রিম কোর্টকে চ্যালেঞ্জ জানানোর 'নিকৃষ্ট প্রচেষ্টা'।
