কলকাতা: দীর্ঘদিন ধরে তিনি কাজ করছেন টলিউডে, তারপরেও ঝুলিতে এত কম কাজ কেন! অভিনেত্রী অরুণিমা ঘোষের (Arunima Ghosh) কাছে এই অভিযোগ করতেই পারেন অনুরাগীরা। তবে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে, তিনি স্পষ্টই জানিয়ে দেন। অনুরাগীদের মোটেই হতাশ করতে চান না তিনি। একই ধরণের চরিত্রে অভিনয় করে, দর্শকদের কাছে একঘেয়ে ও হয়ে যেতে চান না। চরিত্রে নতুন চমক না থাকলে, তিনি সেই চরিত্রে অভিনয় করেন না। তবে একেবারে অন্যরকম একটা চরিত্রে পেয়েছিলেন বলেই, 'উৎসবের রাত্রি'-তে অভিনয় করতে রাজি হয়েছেন, অরুণিমা ঘোষ। আগামী সিরিজ থেকে শুরু করে টলিউড নিয়ে আক্ষেপ, এবিপি লাইভ বাংলার সঙ্গে মন খুলে কথা বললেন অভিনেত্রী।
উৎসব আর রাত্রির, এক রাতের প্রেম। তারপরে বিচ্ছেদ..অদ্ভুত এক সমীকরণে বোনা হয়েছে এই গল্প। রাত্রির চরিত্রের সঙ্গে কী ব্যক্তি অরুণিমার মিল রয়েছে? অভিনেত্রী বলছেন, 'খুব একটা নয়। রাত্রি এমন একটা চরিত্র, যে জীবনের সমস্ত আনন্দটুকু উপভোগ করতে চায়। তার জীবনে কষ্ট রয়েছে, মানসিক টানাপোড়েন রয়েছে। কিন্তু সে সবার সামনে সেটাকে দেখায় না। পরিবারকে ভালবাসে। রাত্রি আসলে এমন একটা চরিত্র, যার সঙ্গে আমাদের বয়সি মেয়েদের অনেক সময়েই মিল পাওয়া যায়। তবে ব্যক্তি অরুণিমা আলাদা। রাত্রি খুব তাড়াতাড়ি প্রেমে পড়ে যেতে পারে। আমি কিন্তু বড্ড কম প্রেমে পড়ি। তবে হ্যাঁ, আমি ও 'হ্যাপি গো লাকি পার্সন'। জীবন উপভোগ করতে ভালবাসি। খুব গম্ভীর, বড্ড বেশি ভাবনাচিন্তা করে, কঠিনভাবে কথা বলবেন.. এইরকম মানুষ আমার ভাল লাগে না। বুদ্ধিদীপ্ত হোক, কিন্তু খুব সিরিয়াস মানুষ আমার পছন্দ নয়। জীবনে ভাবনাচিন্তা কি এমনিই কিছু কম রয়েছে?....' (হাসি)
পর্দায় বাবুল সুপ্রিয়র সঙ্গে জুটি বাঁধছেন অরুণিমা। শ্যুটিং সেটে ২ জনের সমীকরণ কেমন জমল? অরুণিমা উচ্ছ্বসিত হয়ে বললেন, 'বাবুলদা ভীষণ মাটির কাছাকাছি একজন মানুষ। আর একেবারে বাচ্চাদের মতো চঞ্চল। আমি ১৫ বছর বয়সে ওইরকম ছিলাম। শ্যুটিংয়ের শেষ দিনে ওঁকে খালি গলায় একটা গান শোনাতে বলেছিলাম। উনি শোনালেন... কী অপূর্ব গান। সব মিলিয়ে একজন খুব ভাল মানুষ আর খুব ভাল অভিনেতাও। পাশাপাশি, আমি থ্রিলার থেকে বেরিয়ে অনেকদিন বাদে একেবারে একটা রোম্যান্টিক গল্পে কাজ করলাম। সেটা আমার জন্য একটা স্বাদবদল।'
দীর্ঘদিন ধরে টলিউডে কাজ করছেন অরুণিমা, কখনও মনে হয়েছে, আরও অন্যধরণের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেলে ভাল হত? অরুণিমা বলছেন, 'অবশ্যই! অভিনেত্রী হিসেবে চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করার তো একটা হাতছানি সবসময়েই থাকে। আমি বড্ড বেশিই টাইপকাস্ট হয়েছি বলে আমার মনে হয়। কেরিয়ারের শুরু থেকে সেই... বড়লোক বাবার আদুরে মেয়ে হয়েই রয়ে গেলাম। 'কীর্তন'-এ অভিনয় করার পরে অনেকগুলো একই ধরণের সিনেমার অফার এল। 'ইস্কবনের বিবি', 'লেডি চ্যাটার্জি'-র ক্ষেত্রেও একই জিনিস হয়েছে। আমি একঘেয়ে চরিত্রে অভিনয় করতে খুব তাড়াতাড়ি বিরক্ত হয়ে যাই। পাশাপাশি দর্শকদের সামনেও একঘেয়ে চরিত্র বারে বারে নিয়ে আসতে চাই না। মনে হয়, বছরে একটা কাজ করলেও, সেটা যেন মনের মতো হয়। সেই কারণেই বড্ড কম কাজ করা হয়ে যায়।'
