কলকাতা : 'ভূতের ভবিষ্যৎ'-এর পরিচালকের রহস্যমৃত্যু ! ফ্ল্যাটের চারতলা থেকে পড়ে পরিচালক অনীক দত্তের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। তিনি বলেন, "আমি একজন অভিভাবক হারালাম। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির খুব কম লোক আছেন, যাদের আমি রেসপেক্ট করি। অনীক দা অন্যতম। আমি গুছিয়ে কথা বলতে পারছি না।"

Continues below advertisement

শোকপ্রকাশ করলেন পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, "হ্যাঁ, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক, দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। আমাদের খুব কাছের লোক। অনীক দা-র সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। সেই বিজ্ঞাপন করার সময় থেকে। শুরু হয়েছিল যাতায়াত। তারপরে ছবি এতকাল ধরে। এই সময়ের মধ্যে অসুস্থতা। সব সময়ের ছিলাম, দেখেছি। খুব ভাল লোক ছিলেন। মানে, দৃঢ়চেতা মানুষ। সত্যি আমাদের ফিল্ম জগতের জন্য একটা খুব দুঃখজনক ঘটনা।" 

Continues below advertisement

হিন্দুস্তান পার্কের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে রহস্যমৃত্যু পরিচালক অনীক দত্তর। বুধবার দুপুরে এই খবর সামনে আসতেই শোকের ছায়া নেমে আসে বাংলা ফিল্ম জগতে। তাঁর 'ভূতের ভবিষ্যৎ', 'অপরাজিত'-র মতো সিনেমা বাংলা সিনেমা-প্রেমীদের হৃদয় মন জয় করে নিয়েছিল।

ফ্ল্যাটের নিচ থেকে মেলে দেহ। কীভাবে উপর থেকে পড়লেন পরিচালক ? এনিয়ে রহস্য রয়েছে। তবে, ফ্ল্যাটের ছাদেই মিলেছে 'সুইসাইড নোট'। সূত্রের খবর, তাতে লেখা আছে, 'আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।'

এসএসকেএম হাসপাতালে আগামীকাল পরিচালক অনীক দত্তর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা। তাঁর পরিবার সূত্রে এমনই জানা গেছে। মুম্বইয়ে তাঁর একমাত্র কন্যা থাকেন। তিনি আজ মুম্বই থেকে আসবেন। তারপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আজ ময়নাতদন্ত হবে না । তার কারণ ময়নাতদন্ত করার যে সময়, সেই সময় পেরিয়ে গেছে। তাই আগামীকালই হবে। দুপুর ১টার কিছু পরে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁকে। সেই সময় তাঁর মাথার পিছনের দিকের অংশ, কপালের দিকের অংশ, কোমর এবং বুকের পাঁজর বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। মাথা থেকে প্রচুর রক্ত বেরোচ্ছিল। তারপরে তাঁকে পরীক্ষা করা হয়। ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ, 'ব্রট ডেথ' ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিতরা একে একে হাসপাতালে আসতে থাকেন। শতরূপ ঘোষ, দীপ্সিতা ধরের মতো রাজনৈতির ব্যক্তিত্বরা যেমন আসতে থাকেন। তেমনি আসেন নবনির্বাচিত বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ, শ্রীলেখা মিত্ররা আসেন।