কলকাতা: সামনেই মুক্তি পাচ্ছে তাঁর নতুন সিনেমা, 'পক্ষীরাজের ডিম' (Pokkhirajer Dim)। আর সেই সিনেমায়, এক বিজ্ঞানীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন তিনি। তবে তিনি চিরকালই বর্তমান টলিউড নিয়ে, সিনেমার পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট আর সুচিন্তিত মতামত রাখেন। অনির্বাণ ভট্টাচার্য (Anirban Bhattacharya)। নিজের আগামী ছবি নিয়ে তিনি আশাবাদী হলেও, টলিউডে, গোটা পৃথিবীতেই যে সিনেমা কম হচ্ছে, সেই কথা স্বীকার করে নিলেন তিনি। নিজের মতো করে তার কারণ ও বিশ্লেষণ করলেন অনির্বাণ।
বর্তমানে টলিউডে ছবির সংখ্যা কমছে বলে মনে করেন অনির্বাণ? অভিনেতা পরিচালক বলছেন, 'ডেটা তাই বলছে।' কারণ জানতে চাওয়া হলে অনির্বাণ উত্তরে বলেন, 'আমি তো সব কারণ বলতে পারব না। তবে আমার মনে হয় সারা পৃথিবীতেই সিনেমা কম হচ্ছে। হয়তো ভারতবর্ষেও সিনেমা কম হচ্ছে। সিনেমা ইজ আ ডাইং আর্ট ফর্ম। শিল্পের এই ধারাটা মারা যাচ্ছে। এটা শুনতে খারাপ লাগুক, তেঁতো লাগুক, এটা সত্যি কথা। সিনেমা মারা যাচ্ছে, এটার জন্য আপনাকে কোথাও যেতে হবে না। এটা নিজেকে দিয়েই বোঝা যায়। একটা কনটেন্ট দেখানোই তো সিনেমার মূল উদ্দেশ্য। আমরা যখন কমার্শিয়াল সিনেমা করি, তখন বলতে খুব ভাল লাগে, সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে হলে গিয়ে পপকর্ণ খেতে খেতে সিনেমা দেখা.. আদতে আমাদের উদ্দেশ্যটা থাকে বিনোদন নেওয়া। বিনোদনের কাছে যাওয়া। আমি সর্বক্ষণ বিনোদনকে নিয়ে ঘুরছি। আমার পকেটে হোক, আমার ল্যাপটপে হোক। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সিনেমা একটা মৃতপ্রায় শিল্প।'
এর কারণ হিসেবে কি সোশ্যাল মিডিয়াকে দায়ী করেন অনির্বাণ? অভিনেতা পরিচালক বলছেন, 'ইন্টারনেট'। বিনোদন দেওয়ার জিনিস এসে গিয়েছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে। এখানে সিনেমা কী করে একরকম থাকবে? আরও কমবে। কমতে কমতে একটা সময়ে বন্ধ হয়ে যাবে। বন্ধ হয়ে যাবে বলতে মিউজিয়ামের মতো থাকবে।' এখন তো ওয়েব সিরিজের জমানা। ওটিটিতে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাও। অনির্বাণ বলছেন, 'ওয়েব সিরিজ কখনোই সিনেমা হতে পারে না। সিনেমা মানে বড়পর্দার সিনেমা। সিনেমা হলে গিয়ে যেটা দেখতে হয়। কমিউনিটি ওয়াচ। এরপরে ওটিটিতেই হয়তো সিনেমা রিলিজ হবে। সিনেমাহলে হয়তো হবে না। লঙ ফরম্যাট কনটেন্টের জোর প্রতিদিন কমছে। এমনিতে ধুমধাড়াক্কা মারপিট হলে লোকে তো দেখছি ৪ ঘণ্টাও দেখছে। কিন্তু একটু ভালবাসার কথা, একটু গভীর কথা, মানুষ একদম দেখতে চাইছেন না। সেই ধারাটা হয়তো বদলে যাবে। এক একটা সময়ে দর্শকদের মন এক একটা অধ্যায়ের মধ্যে দিয়ে চলে। আমাদের দেশ, আমাদের রাজ্য, আমাদের সময়টা একটা অধ্যায়ের মধ্যে দিয়ে চলছে। এটা বদলে যাবে। কিন্তু বেশী দৈর্ঘ্যের বিনোদন একটা চিরকালীন ভয়ের পরিস্থিতির মধ্যে এসে পড়েছে। এই পরিস্থিতিটাকে খুব কাছাকাছি সময়ে বদলে ফেলাটা আমি অন্তত সম্ভব দেখি না।'