কলকাতা: আজ জন্মদিন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের (Rituparna Sengupta)। দীর্ঘদিন ধরেই টলিউডে রাজত্ব করছেন নায়িকা, তাঁকে নিয়ে কত অভিনেতা, অভিনেত্রীর কত স্মৃতি! আর আজ, তাঁর জন্মদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেত্রীকে নিয়ে স্মৃতি উজাড় করে দিলেন অভিনেতা অর্জুন চক্রবর্তী (Arjun Chakrabortyy)। সোশ্য়াল মিডিয়ায় আজ নায়িকার সঙ্গে একটি পুরনো ছবি শেয়ার করে নিয়েছেন অর্জুন, লিখেছেন নায়িকাকে নিয়ে অনেক স্মৃতি।

Continues below advertisement

অর্জুন লিখেছেন, 'এই মেয়েটিকে আমি বহু বছর ধরে চিনি, চিনি বললে ভুল হবে, জানি। প্রায় ৩৫ বছর! ওর প্রথম বড় পর্দায় পদার্পণ আমার সঙ্গে ('৭২ দিন পর', ছবির নাম), দুর্ভাগ্যবশত রিলিজ হয়নি। তারপর থেকে ওর আমার পূর্ণ দাস রোডের বাড়িতে আসা যাওয়া। আমার মেয়ের তখন এক বছর বয়স, ও এখনও আমার মেয়েকে ডাক নাম ধরে ডাকে। নীলাঞ্জনা ওকে ভীষন ভালবাসে।আমার ও খুব খুব প্রিয়। একটা কথা বলি বলি করে বলা হয়নি। যদিও ও আমার অনেক পরে আমাদের পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, আমার থেকে বয়সে ছোট, আমার জুনিয়র, তবু বলতে কোন দ্বিধা নেই যে ওর কাছ থেকে আমার অনেক কিছু শেখার আছে। আমি আজ পর্যন্ত ওকে কারুর ওপর রাগতে দেখিনি, কারুর সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলতে বা পরনিন্দা অথবা কুটকাচালি করে সময় নষ্ট (যা বাঙালীদের সব চাইতে প্রিয়) করতে দেখিনি। অত্যন্ত চাপ বা টেনশনের পরিস্থিতির মধ্যেও ওকে ঘাবড়াতে বা ভেঙে পড়তে দেখিনি। দেখা হলেই ওকে আমি জিজ্ঞেস করি! "হ্যাঁরে কিছু টিপস দে না,কী করে পারিস"! ও নিজের পেশাগত জীবনের সমস্যা, নিজেকে এত বছর ধরে ধরে রাখা, এত বিরোধিতা, পরশ্রীকাতরতা, হিংসা, আবার নিজের সন্তান স্বামী সংসার সামলানো! এক লহমার জন্যও ওকে নিভে যেতে দেখিনি। আমরা দুজনে পরবর্তীকালে বেশ কয়েকটি ছবিতে এক সঙ্গে কাজ করেছি। এত ভাল মনের সহকর্মী কোনদিন পাইনি বললে ভুল বলা হবে (আমি সৌভাগ্যবশত চিরকাল ই সবার প্রিয়), কিন্তু ও একটু আলাদা। আমি ওকে লক্ষ্য করি যখন ও আমার মেয়েকে জড়িয়ে ধরে, নীলাঞ্জনার সাথে নিজের সুখ দুঃখের কথা বলে, আমায় কতটা সম্মান করে এবং তার মধ্যে কোন ভেজাল বা কারসাজি নেই! ওর মা বাবা আজ এই পৃথিবীতে নেই, ওঁরা আমায় ভীষণ ভালবাসতেন। ওর স্বামী সঞ্জয় (চক্রবর্তী) কে আমার বেশ লাগে। নিজের বিদ্যা বুদ্ধির জোরে ও নিজের যোগ্যতা অর্জন করেছে।'

অর্জুন আরও লিখেছেন, ' এবার বলি; "আজ তোর জন্মদিন, সুস্থ থাকিস, যেরম আছিস ঠিক সেইরম থাকবি বদলাস না। অবশ্য কারুর কথায় যে তুই কান দিস না, আমি জানি! এই ছবিটা দেয়ার একটা কারন আছে। এখানে আমি বলছি আর তুই শুনছিস। আমি বলছি যে আমার এখনো মনে পড়ে ধিরে ধিরে উত্থান ও নানা জীবনের জটিলতা পেরোনো একটি মেয়ের একা লড়ে যাওয়ার কথা। তোর এই যুদ্ধকে আমি কুর্নিশ জানাই। শুভ জন্মদিন রে।'

Continues below advertisement