কলকাতা: ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত (Indraneil Sengupta) এবং বরখা বিস্ত (Barkha Bisht) ছিলেন টলিউড ও বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় এক জুটি। কিন্তু, প্রায় ১৫ বছর একসঙ্গে থাকার পরে,  প্রাক্তন দম্পতি তাদের মেয়ের মাত্র ৯ বছর বয়সে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। ২০২২-এই তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়, কিন্তু এখন, প্রায় চার বছর পরে, বরখার সম্প্রতি দেওয়া একটি বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারের পর তাদের বিচ্ছেদের খবর আবার শিরোনামে উঠে এসেছে। ইন্দ্রনীলকে প্রতারণার অভিযোগ করা থেকে শুরু করে অভিযোগ করা যে ইন্দ্রনীল তাঁর ও বরখার কন্যা মীরাকে সঠিকভাবে বড় করে তোলার দিকে বিন্দুমাত্র নজরও দিচ্ছেন না।

সম্প্রতি সিদ্ধার্থ কান্ননকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বরখা বিস্ত ইন্দ্রনীল সেনগুপ্তের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ঠিক কেন খারাপ হতে শুরু করেছিল, তা নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন যে তিনি ইন্দ্রনীলের ওপর ভীষণভাবে নির্ভরশীল ছিলেন আর এটাই তাঁর ভুল ছিল। সেটাই নাকি তাঁদের প্রেম ভাঙার অন্যতম কারণ। ইন্দ্রনীল নিজের পছন্দ মতোই বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

বরখা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ইন্দ্রনীলের ছিল।  তবে তিনি আরও বলেছেন তাদের দীর্ঘ বৈবাহিক সম্পর্কে বেশ কিছু ভাল মুহূর্ত ছিল। তিনি নিজেকে খুব ‘দক্ষ’ হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন এবং উল্লেখ করেছিলেন যে ইন্দ্রনীলের দক্ষতা তাঁর সঙ্গে মোটেই মিলত না। এটা তাঁকে বিরক্ত করত। অন্যদিকে, ইন্দ্রনীল তাঁর বিরুদ্ধে তাঁদের জীবনের প্রতিটি দিক ‘নিয়ন্ত্রণ’ করতে চাওয়ার অভিযোগ আনেন। বরখা বলেছিলেন, তিনি মা হিসেবে খুব কঠিন, সেই কারণেই ইন্দ্রনীলের মনে হত, বরখাই তাঁর মেয়ের জীবনের সমস্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। বরখা বলেছেন, তিনি যদি সবকিছু মানিতে নিতে পারতেন তাহলে হয়তো তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক বেঁচে থাকত।

বরখার কথায়,  ‘কেউ যদি প্রতারণার পথ বেছে নেয়, তাহলে সে প্রতারণা করবেই’। ইন্দ্রনীল যেভাবে তাঁর বিশ্বাস ভেঙেছিলেন ও বরখাকে প্রতারণা করেছিলেন, সেটাই তাঁদের বিয়ে ভাঙাকে ত্বরান্বিত করেছিল। বরখা জানিয়েছেন যে, ২ বছর তিনি তাঁদের বিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করে গিয়েছেন। তিনি ইন্দ্রনীলকে ক্ষমা করতেও প্রস্তুত ছিলেন কিন্তু ইন্দ্রনীল আর ফিরে আসতে প্রস্তুত ছিল না।

বরখা খোলাখুলিভাবেই বলেন, ইন্দ্রনীল যখন তাঁকে প্রতারণা করেছিলেন, তাঁর আত্মবিশ্বাস ভেঙে গিয়েছিল। বরখা নাম করেই বলেন, তিনি বাঙালি অভিনেত্রী ইশা সাহাকে নিয়ে ইন্দ্রনীলকে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন। ‘তরুলতার ভূত’ ছবিতে অভিনয় করার সময় থেকেই ইশা এবং ইন্দ্রনীলের আলাপের সূত্রপাত। শোনা যায়, তাঁরা নাকি সেই সময় থেকেই একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। বরখা নাকি ইন্দ্রনীলকে ইশার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সরাসরি প্রশ্নও করেছিলেন। কিন্তু ইন্দ্রনীল যা উত্তর দিয়েছিলেন তা সন্তোষজনক ছিল না বরখার কাছে। বরখার কথায়, ‘ইন্দ্রনীল যাঁকে পছন্দ করার করে ফেলেছেন, এবার তিনি খালি তার যুক্তিটা সবাইকে দেবেন।’ বরখা বুঝতে পেরেছিলেন আর কিছুই ঠিক হওয়ার নয়।