কলকাতা: উদযাপনের অপর নাম যেন দেব (Dev)। শনিবার 'নেতাজি ইনডোর' স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠান যতটা না 'রঘু ডাকাত'-এর, তার চেয়েও যেন বেশি দেবের। পায়ে পায়ে ইন্ডাস্ট্রিতে ২০ বছর পার করে ফেললেন দেব। এদিন দেবকে উদযাপন করতেই যেন হাজির হয়েছিলেন তাঁর সঙ্গে অভিনয় করা নায়িকারা। তবে শুধুই নায়িকারা নন, কেরিয়ারের একেবারে শুরুর দিক থেকে দেবের সঙ্গে কাজ করেছেন যে সমস্ত কলাকুশলীরা, টেকনিশিয়ান্সরা, প্রযোজকেরা.. তাঁরা প্রায় সবাই উপস্থিত ছিলেন এদিন। প্রত্যেকেই শেয়ার করে নেন, দেবকে নিয়ে তাঁদের প্রত্যেকের ছোট ছোট অভিজ্ঞতা। 

এদিন দেব তাঁর সঙ্গে কাজ করা বহু মানুষদেরই মঞ্চে ডেকে নিয়েছিলেন। আর সেখানেই উঠে আসে, এক অজানা গল্প। টেকনিশিয়ান্স হারু দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন দেবের সঙ্গে। কেরিয়ারের একেবারে শুরুর দিক থেকে দেখেছেন তাঁকে। এদিন তিনি বলেন, 'একেবারে সফরের শুরু থেকে দেখছি দেবদাকে। সালটা ২০০৫। 'অগ্নিশপথ' সিনেমার শ্যুটিং করছিলেন দেবদা। আমরা তখন শুনতাম, দেবদা শিয়ালদহের কোনও একটা মেসে থাকতেন। বাসে করে আসতেন, ট্রাম ডিপোতে নামতেন। তারপরে কাঁধে একটা ব্যাগ নিয়ে হেঁটে হেঁটেই ঢুকে যেতেন শ্যুটিং ফ্লোরে। সেই সময়ে, দেবদার ঘন ঘন চা খাওয়ার অভ্যাস ছিল। তপন বলে একজন ছেলে আমাদের চা দিত। আর দেবদা বার বার চা চাইতেন। সেই তপন একদিন খুব রেগে গিয়ে দেবদাকে বলল, 'এই শোনো, আগে নায়ক হবে, তারপরে চা খাবে।' সেদিন দেবদা চলে গিয়েছিলেন। এরপরে, ২০০৬ নাগাদ, দেবদা 'আই লাভ ইউ' করলেন, তারপরে 'মন মানে না',। তখন ভেঙ্কটেশের অফিস ছিল প্রিন্সটন ক্লাবে। সেই সময়ে, দেবদা ভেঙ্কটেশের অফিসে কিছু একটা বিষয়ে কথা বলতে এসেছিলেন। সেখানে ওই তপন ও ছিল, আমরাও ছিলাম। কী শ্যুটিং হচ্ছে দেখতে দেখতে, দেবদা হঠাৎ তপনদাকে দেখতে পান। ডেকে বলেন, 'তপনদা.. আমি কিন্তু এখন হিরো হয়ে গিয়েছি।'

এদিন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দেবের বাবা, মা ও বোন ও। প্রত্যেকেই দেবকে নিয়ে নিজের নিজের আবেগের কথা ভাগ করে নেন। এদিন মঞ্চে বসেই দেবের বোন বলেন, তিনি কোনোদিন তাঁর দাদার পরিচয় কোথাও সুবিধা পেতে ব্যবহার করেননি। বরং তিনি একবার দেবের সঙ্গে শ্যুটিংয়ে গিয়েছিলেন বিদেশে। সেখানে মানুষ ভিড় করে শ্যুটিং দেখছিলেন। একজন তাঁকে প্রশ্ন করেন, দেব তাঁর দাদা কি না। তার উত্তরে দেবের বোন বলেছিলেন, একেবারেই না। তিনি সাধারণ দর্শক।