কলকাতা: আজ রামনবমী। বিজেপির তরফ থেকে আজ গোটা পশ্চিমবঙ্গের জায়গায় জায়গায় রামনবমীর মিছিল বের করা হয়েছে বিজেপির তরফে। সেখানে যোগ দিয়েছেন একাধিক নেতা-মন্ত্রীরা। তবে এবার, রামমন্দিরে গিয়ে পুজো দিলেন অভিনেতা দেব (Dev)। অভিনেতার পাশাপাশি, তাঁর আরও একটা পরিচয় রয়েছে। তিনি তৃণমূল সাংসদ ও। তবে তিনি সবসময়ই হাঁটেন নিজের পথে, নিজের মতে। আজ ঘাটালে, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ দেখতে হাজির হয়েছিলেন দেব। আর সেখানে গিয়েই, রামমন্দিরে পুজো দিলেন অভিনেতা। কপালে গেরুয়া সিঁদুর, গলায় গেরুয়া উত্তরীয় দিয়ে.. দেবের মুখে শোনা গেল জয় শ্রী রাম (Jay Shree Ram)। 

Continues below advertisement

এদিন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ দেখার পরে দেব মঞ্চে উঠে বলেন, 'জয় শ্রী রাম। জয় জয় শ্রী রাম। ঘাটাল এমন একটা জায়গা, যেখানে মানুষের মনে ভালবাসা রয়েছে। এখানকার মানুষের মনে ভালবাসা আছে, আত্মীয়তা আছে, ভরসা আছে। ঘাটালের সাংসদ হিসেবে আমার ভীষণ গর্ব হয়। এখানে সমস্ত উৎসবকে উদযাপন করা হয়, সেটা একটা গর্বের ব্যাপার। সাংসদ হিসেবে আপনাদের সামনে এসে আমি গর্বিত। এটুকুই বলতে চাই, আমি আপনাদের সঙ্গে আছি, পাশে আছি, সাথে আছি। আপনাদের দাবি, আপনাদের চাহিদা সমস্ত আমি দিদির কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।'

প্রসঙ্গত, সদ্যই টলিউডে টেকনিশিয়ান্সদের জন্য স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। তবে নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পরে, সেই প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ করা হয়েছে। এরপরে ফেসবুক লাইভে এসে দেব জানিয়েছিলেন, একেবারে সহজ সরলভাবে তিনি গোটা ব্যবস্থাটা করতে পারেননি। বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকেও। দেবের কথায়, 'এই উদ্যোগের শুরুর দিকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল যে, টেকনিসিয়ান্সদের আসতে দেওয়া হবে না। টেকনিসিয়ান্সদের বোঝানো হচ্ছিল, এই বীমা তাঁদের জন্য নয়। তাঁদের জন্য অন্য একটা বীমা রয়েছে। আমার কাছে সমস্ত স্ক্রিনশট রয়েছে। আমি কাউকে চ্যালেঞ্জ করছি না, তর্ক করছি না। কেবল বলতে চাই, শুধু টেকনিসিয়ান্সদের কথা ভেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া। আমার মনে হয়েছিল, যখন একটা সরকারি বীমা রয়েছে, সেই সুযোগ টেকনিসিয়ান্সরা কেন পাবেন না? সেই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ।'

Continues below advertisement

দেব আরও বলেছিলেন, 'ভাবিনি এই ভিড় দেখতে পাব। শনিবার সকাল থেকে প্রচুর ভিড় দেখেছি। নির্বাচন মিটলে মাননীয়া দিদির হয়ে কথা দিচ্ছি, আবার ক্যাম্প হবে। দিদির নির্দেশেই এই কথা বলছি। তবে কেউ এই সুবিধা নেওয়ার জন্য আপনাকে জোর করবে না। আর যাঁরা নিয়েছেন, তাঁরা যে ব্যান হয়ে যাবেন, তাঁদের কাজে আসতে দেওয়া হবে না এমন নয়। সুস্থ থাকা, সরকারের পরিষেবা পাওয়া সাধারণ মানুষের উচিত। সেখানে কাউকে দয়া করে আটকাবেন না। যাঁরা আসতে চাইছে, আসতে দিন। প্রচুর ফোন পেয়েছি... শুভেচ্ছা পেয়েছি। আমি কোনও ক্ষমতার নেশায় এটা করছি না, ভালবাসি বলে করছি। ২০ বছর ধরে টেকনিসিয়ান্সদের কষ্টটা চোখে দেখেছি। ঝড় বৃষ্টিতে একসঙ্গে শ্যুটিং করেছি। একটাই কথা, ভয় পাবেন না। আমাদের সবার একটাই স্বপ্ন.. ইন্ডাস্ট্রি কীভাবে আরও বড় হবে, সবাই নির্ভয়ে কাজ করতে পারবেন।'