নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে ভারতে হাহাকার। রান্নার গ্যাস বুকিংয়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছে সময়সীমা । ঘরে ঘরে আশঙ্কা, কবে গ্যাস বুক হবে। গ্যাস শেষ হলে রান্না হবে কীসে। ব্যবসায়ীরাও সঙ্কটে। ইতিমধ্যেই সমস্যায় পড়েছে ছোট ব্যবসায়ীরা। অটোচালকদেরও মাথায় হাত। এই পরিস্থিতিতে দেশ কোন পথে যাবে ? যুদ্ধ না থামলে ভারতের মানুষ কি আরও দুর্দিন দেখতে চলেছে? ফিরে আসতে পারে কি লকডাউনের পরিস্থিতি? এমন আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন শ্রীলঙ্কা বা ইউরোপের কোনও কোনও দেশের মতো এনার্জি লকডাউন হতে পারে। আশঙ্কা বাড়িয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য। কোভিডের সময়ে লকডাউনের কথা মনে করিয়ে আক্রমণ শানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, 'পেট্রোলের দাম বাড়িয়েছে, আবার অ্যালার্ট করেছে। ওনাদের অ্যালার্ট করার মানে তো আমি বুঝি। লকডাউন করবে ভাবছে কিনা? জানি না, করলে করবে ... লকডাউন করে মানুষকে ঘরবন্দি করে রাখবেন।' আর এই মন্তব্য নিয়েই ছড়িয়েছে আতঙ্ক। তবে কি সত্যিই দুর্দিন আসতে চলেছে? 

Continues below advertisement

এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। বলেছেন,  ভারতে লকডাউন নিয়ে যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী PTI - কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, 'উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ভয় তৈরি করতে চাইছেন। পশ্চিমবঙ্গে পরিস্থিতি বিচিত্র। উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ভোটে হারছেন। এই ভয়ে উনি যা খুশি বলছেন।'  কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পেট্রোল ও ডিজেলের উপর সরকারের আবগারি শুল্ক কমানোর বিষয়ে  বলেন, "ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির বোঝা থেকে মধ্যবিত্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অংশকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এর লক্ষ্য, মুদ্রাস্ফীতি যেন তাদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে তা নিশ্চিত করা। তার জন্যই, সরকার তার বহুবিধ প্রতিশ্রুতি ও দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেও নিজস্ব ব্যয়সঙ্কোচ করেছে। '' 

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীও এক্স পোস্ট করে জানিয়েছেন, ভারতে লকডাউন নিয়ে যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে তা সমপূর্ণ মিথ্যা।

Continues below advertisement

২৮ দিন ধরে আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলছে ইরানের। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে তাদের হাতে থাকা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে ইরান।যার জেরে বিশ্বজুড়ে গ্যাস-জ্বালানির সংকট তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ভারত-সহ কিছু বন্ধু দেশকে হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের অনুমতি দিলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।