নয়াদিল্লি: অন্য তারকাপত্নীদের মতো মেপেজুপে কথা বলার পক্ষপাতী নন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনের খুঁটিনাটি তুলে ধরতেও পিছপা হন না। সেই নিয়ে নানা জন, নানা কথা বললেও পরোয়া করেন না বলিউড অভিনেতা গোবিন্দের স্ত্রী সুনীতা আহুজা। এবার নিজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের কথা সকলকে জানালেন তিনি। শিশুসন্তান কীভাবে তাঁর কোলে প্রাণ রেখেছিল, সেই হৃদয় বিদারক ঘটনা তুলে ধরলেন। (Sunita Ahuja)
গোবিন্দের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে আগেই মুখ খুলেছেন সুনীতা। এবার জানালেন, সব ঠিক থাকলে তিন সন্তান হতো তাঁদের। সুনীতা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই কন্যাসন্তান প্রসব করেন তিনি। সেই মেয়েও তাঁর কোলেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। কোলের সন্তানকে হারানোর সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন গোবিন্দা পত্নী। (Govinda News)
সুনীতা জানিয়েছেন, জন্মের পরও বেঁচেছিল তাঁর শিশুসন্তান। তিন মাস ধরে লড়াইয়ের পর মায়ের কোলেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। সুনীতার বলেন, “দ্বিতীয় বার মেয়ে হয় আমার। মেয়ে প্রিম্যাচিওর ছিল। তিন মাস আমার কোলেই ছিল। কিন্তু ওর ফুসফুস ঠিকমতো গঠিত হয়নি। শেষ পর্যন্ত, একরাতে আর শ্বাস নিতে পারছিল না। আমার কোলেই মারা যায়। আমার জন্য অত্যন্ত কঠিন সময় ছিল ওটা। আজ আমার দুই মেয়ে, এক ছেলে হওয়ার কথা ছিল।”
জীবনের ওই সময় নিয়ে আগেও মুখ খুলেছিলেন সুনীতা। তবে এত গভীরে যাননি। সুনীতা জানান, প্রথম বার সন্তান প্রসবের সময় তেমন সমস্যা হয়নি তাঁর। ভারী জিনিস তুলতে নেই, জানতেন না তিনি। তাই সিঙ্গাপুর থেকে ভারী ওজনের চকোলেট ব্যাগ নিয়ে ফিরছিলেন। কিন্তু মুম্বই পৌঁছতে পৌঁছতে ‘ওয়াটার ব্রেক’ হয়ে যায়। সেই সময় গোবিন্দের কী ভূমিকা ছিল, তা যদিও খোলসা করেননি সুনীতা।
১৯৮৭ সালের মার্চ মাসে সুনীতা এবং গোবিন্দে বিয়ে হয়। কিন্তু ১৯৮৮ সালে বড় মেয়ে টিনার জন্ম হওয়ার আগে পর্যন্ত বিয়ের কথা গোপনই রেখেছিলেন তাঁরা। ১৯৯৭ সালে তাঁদের ছেলে যশবর্ধনের জন্ম হয়। দীর্ঘ তিন দশকের দাম্পত্যে বেজায় ঝড়ঝাপটাও গিয়েছে তাঁদের। কয়েক মাস আগেও তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের জল্পনা জোর পায়। সুনীতা সেই মর্মে গোবিন্দকে নোটিসও পাঠান বলে জানা যায়। যদিও শেষ পর্যন্ত বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। গেবিন্দের কাছ থেকে অবহেলা পেয়েছেন বলে স্বীকার করতে দ্বিধা করেননি সুনীতা। তবে গোবিন্দের থেকে আলাদা হওয়ার কথা ভাবতে পারেন না বলে জানান।