কলকাতা : তিনি  'উন্নয়নের পাঁচালি' গাওয়ার পর থেকেই নেটমাধ্যমে তীব্র কটাক্ষের শিকার হন। ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’ পাওয়ার পর  সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও আক্রমণের মুখে পড়েন গায়িকা ইমন চক্রবর্তী। 'ট্রোলিং ও চরম অপমানজনক মন্তব্যে'র জেরে  সোশ্যাল মিডিয়াও ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা সংবাদমাধ্যমে জানিয়ে ছিলেন গায়িকা । রাজ্য সরকারের তরফে ‘বঙ্গবিভূষণ’ প্রাপ্তি ও তৃণমূল কংগ্রেসের 'উন্নয়নের পাঁচালী' গাওয়ার পর জল্পনা শুরু হয়ে যায়, গায়িকা ইমন এবার তৃণমূলের প্রার্থী হলেন বলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো আলোচনা শুরু হয়ে যায়, কোন কেন্দ্র থেকে তিনি ভোটে লড়বেন।  

Continues below advertisement

মঙ্গলবার , ১৭ মার্চ , তৃণমূল প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল। নতুন অনেক মুখ থাকলেও, সেখানে ইমন চক্রবর্তীর নাম নেই। তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা সামনে আসার পরই ফেসবুকে তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট করলেন ইমন। লিখলেন, 'প্লিজ, আমাকে এবার একটু নিজের পায়ে দাঁড়াতে দিন।' ইমন লিখলেন, বিগত কয়েকমাস ধরে তাঁর সঙ্গে যা যা ঘটেছে তারর কথা। লিখলেন, ' বিগত কয়েক মাস ধরে আপনারা আমাকে বিভিন্ন জায়গায় দাঁড় করিয়েছিলেন। এই যেমন উত্তরপাড়া, দক্ষিণপাড়া, বালি, সিমেন্ট, আমতলা, জামতলা ইত্যাদি। কেউ কেউ আবার কেওড়াতলাতেও নিয়ে গিয়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন। এবার আপনাদের কাছে করজোড়ে একটি বিনীত অনুরোধ রাখছি- প্লিজ, আমাকে এবার একটু নিজের পায়ে দাঁড়াতে দিন।' 

সাম্প্রতিক অতীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে ইমন জানান, তিনি মায়ের মৃত্যুদিবসে তিনি একটি স্মৃতিমন্থনের পোস্ট করেছিলেন। সেখানেও মানুষ তাঁকে ছাড়েনি। অনেকেই কুরুচিকর পোস্ট করেন।  কেউ কেউ সেখানেও তাঁর উন্নয়নের পাঁচালি গাওয়া নিয়ে কটাক্ষ করেন।এমনও সেখা হয়, তাঁর মা যেন দেখেন তিনি কীভাবে পাঁচালি গেয়ে বঙ্গবিভূষণ পেয়েছেন ইমন। এই মন্তব্যে তিনি আহত হয়েছেন বলে জানান।  তাতে তিনি অসুস্থ বোধ করেছেন বলে জানান। সিদ্ধান্ত নেন সমাজমাধ্যম থেকে সরে দাঁড়ানোর। 

Continues below advertisement

তবে এও জানান, তিনি সম্পূর্ণ ভাবে সমাজমাধ্যম থেকে  নিজেবে বিছিন্ন করছেন না ইমন। তিনি জানান,  পেশাগত কারণে তাঁর ফেসবুক পেজ এবং ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থাকবে। যেখানে তিনি তাঁর নতুন গান, কাজের আপডেট, অন্যান্য পেশাগত তথ্য শেয়ার করবেন। এবার প্রার্থীতালিকায় তাঁর নাম না-থাকায় যেন সব কিছুর জবাব দেওয়া হল গায়িকার।