কলকাতা: বাঙালি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিয়ে বিচ্যুতি পছন্দ করে না... এ যে বারে বারে, বিভিন্ন ঘটনায় প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। সিংহভাগ বাঙালি রবীন্দ্রনাথের গানে, কবিতায় খুঁজে পায় নিজের আবেগককে, মনে হয়, লেখনিই যেন বলে দিচ্ছে মনের কথা। তবে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে ফিউশন করতে গিয়ে কম শিল্পীকে কম কিছু সমালোচনা সহ্য করতে হয়নি। আর সেই ঘটনাই ফের একবার ঘটল 'ডান্স বাংলা ডান্স' (Dance Bangla Dance)-এর মঞ্চে।

'চণ্ডালিকা' নৃত্যনাট্যের পরিবেশনা করা হয়েছে 'ডান্স বাংলা ডান্স'-এর মঞ্চে। প্রতিযোগী অনুষ্কা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই পারফর্মম্যান্সে অংশ নিয়েছিলেন অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত (Debolina Dutta)। অনুষ্কা নৃত্য পরিবেশন করেছেন প্রকৃতির ভূমিকায় আর দেবলীনা নৃত্য পরিবেশন করেছেন আনন্দের ভূমিকায়। আর এই 'চণ্ডালিকা'-র পারফর্মম্যান্সে হিন্দি গানের ব্যবহার নিয়েই উঠেছে যাবতীয় আপত্তি। 'চণ্ডালিকা'-এর এই পরিবেশনায় প্রকৃতি ও আনন্দকে নাচতে দেখা গিয়েছে, ৭০-এর দশকের জনপ্রিয় হিন্দি গান, 'তেরে বিনা জিন্দেগি মে কোই, শিকবা তো নেহি'-র ছন্দে। আর এতেই বিরক্ত আপামর বাঙালি। রবীন্দ্রনাথের 'চণ্ডালিকা'-র সঙ্গে এই গানকে মিলিয়ে ফেলায় যথেষ্ট চটেছেন দর্শককূল।

আর এই বিষয়ে, নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা শঙ্কর (Mamata Shankar)। এই অনুষ্ঠানে অতিথি বিচারকের ভূমিকায় ছিলেন তিনিও। মমতা শঙ্কর জানাচ্ছেন, তিনি এই অনুষ্ঠানে ছিলেন বটে, কিন্তু 'চণ্ডালিকা'-র এই মঞ্চানুষ্ঠান একেবারেই মনে ধরেনি তাঁর। সেই কথা তিনি বিচারকের আসনে বসে বলেওছিলেন। তবে চ্যানেলের তরফ থেকে নাকি সেই সমস্ত কথা কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে। সেখানেই আক্ষেপ মমতাশঙ্করের। তাঁর কথায়, 'আপনাদের কাছে আমি কীভাবে প্রমাণ করব যে আমি এই পরিবেশনাকে সমর্থন করিনি। আমি চেয়ারে বসে বলেছিলাম যে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে এই হিন্দি গানের কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু চ্যানেল খুব স্বাভাবিকভাবেই আমার এই মতামত শোনাতে চাইবে না।'

মমতা শঙ্কর জানিয়েছেন, তিনি প্রথম নৃত্য পরিবেশনা করেছিলেন 'চণ্ডালিকা'। সেই কারণে এই নৃত্যনাট্যের ওপর তাঁর আলাদা মায়া রয়েছে। চ্যানেলে দেখানো হয়েছে, তিনি মঞ্চস্থ হওয়া 'চণ্ডালিকা'-র প্রশংসা করেছেন। তবে মমতা শঙ্করের বক্তব্য, সেই মন্তব্য় এডিট করে দেখানো। আর সেই কারণেই তিনি কোনও নৃত্যানুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে যান না। প্রসঙ্গত, টিভিতে এই পর্বটি সম্পূর্ণ দেখানো হলেও জি ফাইভে বিতর্কিত অংশটি কেটে দেওয়া হয়েছে।