কলকাতা: দিঘা সংলগ্ন তালসারিতে ২৭ মার্চ থেকে চলছিল। আগামীকালই শ্যুটিং সেরে ফিরে আসার কথা ছিল তাঁদের। তবে শ্বেতা মিশ্র (Sweta Mishra) ফিরে আসতে পারলেও, আর স্বজ্ঞানে ফেরা হল না রাহুলো অরুণোদয় বন্দোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee)। শ্যুটিংয়ের শেষে সমুদ্রে নেমে ডুবে যান রাহুল। চলে যান না ফেরার দেশে। এই খবর এখনও মেনে নিতে পারছেন না কেউই। আর তাঁর সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র তো আতঙ্কে ভুগছেন।

Continues below advertisement

রাহুলের ডুবে যাওয়ার পরপরই প্রত্যক্ষদর্শী তথা সহ-অভিনেত্রী শ্বেতার এক ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে শ্বেতাকে অসংলগ্ন কথাবার্তা (অনুমান পরিস্থিতির আকস্মিকতায়) বলতে শোনা যায়। তিনি বলেন, 'আমরা তো এখনই একসঙ্গে শ্যুটিং করছিলাম। আধ ঘণ্টা আগেও একসঙ্গে আমরা শ্যুটিং করছিলাম। সমুদ্রে শ্যুটিং করছিলাম তো আমরা। আমিও মরেছি। আমি ঠিক আছি?' এরপরেই তাঁর আর্তনাদ, 'রাহুল দাকে গিয়ে দেখ না, রাহুল দা ঠিক আছে তো? আমাকে যেতে দিচ্ছে না। ঠিক করে তোল, আমি কথা বলব।'

এই গোটা ঘটনায় শ্যুটিংয়ে নিরাপত্তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সিরিয়ালের প্রোডাকশন ম্যানেজারকে ধরা হলে তিনি অবশ্য দাবি করেন নিরাপত্তার খুব একটা ত্রুটি ছিল এবং রাহুলকে উদ্ধার করতেও বেশি সময় লাগেনি। কাছেই ছিল বোট, দ্রুতই তাঁকে তুলে আনা হয় বলেই জানান তিনি। তবে ওড়িশা পুলিশের তরফে আবার দাবি করা হয়েছে, জলে নেমে শ্যুটিংয়ের অনুমতিই ছিল না। আজকের গোটা ঘটনা তারা জানতে পেরেছে দিঘা থানার থেকে। এর পাশাপাশি, ওড়িশার বালাসোর জেলার পুলিশ সুপারের দাবি, যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে শ্যুটিং করার, জলে নেমে শ্যুটিং করার কোনও অনুমতি পুলিশের কাছ থেকে নেওয়া হয়নি। 

Continues below advertisement

স্থানীয়দের দাবি, সমুদ্রের অনেকটা গভীরেই নাচের একটি দৃশ্যের শ্যুটিং চলছিল। অবশ্য তাঁরা এও দাবি করছিলেন যে রাহুলরা যে সময় শ্যুটিং করছিলেন, তখন সেখানে খুব একটা জল ছিল না। হঠাৎ করেই বিকেল চারটের দিকে জোয়ার আসে আর তাতেই বেড়ে যায় জল। সেই সময় জোয়ারের প্রভাবেই গোটা ঘটনাটি ঘটে। চোরাবালির খাঁজ ছিল। সেখানে পড়ে রাহুল তলিয়ে যান। উপস্থিত ক্রু মেম্বাররাই কোনওমতে রাহুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে ডাক্তাররা অভিনেতাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আপাতত দিঘা মহকুমা হাসপাতালেই রয়েছে রাহুলের দেহ। শুরু হয়েছে তদন্ত।