মুম্বই: বিবাহবার্ষিকীতে কন্যাসন্তানের আগমন ঘটেছে জীবনে। অনুরাগীদের সুখবর দিলেন বলিউড অভিনেতা রাজকুমার রাও এবং তাঁর স্ত্রী পত্রলেখা পাল। অনুরাগী থেকে সতীর্থ, তারকাদম্পতিকে শুভেচ্ছাবার্তায় ভরিয়ে দিয়েছেন সকলেই। কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা বলে প্রথমে বুঝতেই পারেননি পত্রলেখা। (Patralekhaa Pregnancy Journey)
৪১ বছর বয়সে বাবা হলেন রাজকুমার। পত্রলেখা মা হলেন ৩৫ বছর বয়সে। মাস দুয়েক আগে সেই নিয়ে সোহা আলি খানে-র পডকাস্টে মুখ খোলেন পত্রলেখা। তিনি জানান, বছর তিনেক আগে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করিয়ে রাখলেও, স্বাভাবিক উপায়েই গর্ভধারণ করেছেন তিনি। কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা বলে গোড়াতে বুঝতেই পারেননি তিনি। (Bollywood News)
নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে পত্রলেখা বলেন, “২১ বছর বয়স থেকে ঋতুস্রাবের পরিমাণ কমে যায়। সেই সময় চিকিৎসক ওষুধ দিলেও আমি ভয় পেয়ে যাই। ওষুধও খাইনি, আর ডাক্তারের কাছেও যাইনি। রাজকুমার ও আমার সম্পর্ক ১৫ বছরের। পরিবার পরিকল্পনা ছিলই আমাদের। সন্তানের জন্য় চেষ্টা শুরু করলে লুকিয়েই প্রেগন্যান্সি কিট আনিয়ে পরীক্ষা করি আমি। কিন্তু রেজাল্ট নেগেটিভ আসে।”
এর পরই গায়নোকলিজস্টের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পত্রলেখা। তিনি বলেন, “এর পরই আমি ভাবি গায়নোকলিজস্টের কাছে যাওয়া উচিত কি না। এক বন্ধুকে ফোন করি বলি সেকথা। কারণ আমি গায়নোকলিজস্টের কাছে যাইনি কখনও সেভাবে। বন্ধু আমাকে ওর ডাক্তারের কাছে যেতে বলে। এর পর আমি আর রাজ যাই ওঁর কাছে। জানাই যে সন্তান চাই। আমার যে PCOD ছিল, তাও জানাই। এর পর ডাক্তার আমাকে বলেন স্ক্যান করানোয় কম্ফর্টেবল কি না। সেই মতো স্ক্যান করাই। তা দেখে ডাক্তার বলেন, ইউ হ্যাভ আ স্যাক। আমরা ভাবি, সেটা কী! উনি জানান, প্রেগন্যান্ট।” চতুর্থ বিবাহবার্ষিকীতে শেষ পর্যন্ত কন্যাসন্তানের মা হলেন পত্রলেখা।
পত্রলেখা জানিয়েছেন মানসিক ভাবে তাঁরা প্রস্তুতই ছিলেন। তাই সেভাবে সমস্যা হয়নি। তিন বছর আগে ডিম্বাণুও সংরক্ষণ করিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু শেষে স্বাভাবিক উপায়েই মা হতে সফল হন। ডিম্বাণু সংরক্ষণের চেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়া অনেক সহজ বলে মত তাঁর। তবে ৩০-এর পর মা হওয়ার ক্ষেত্রে মেয়েদের সমস্যায় পড়তে হয় বলে মত চিকিৎসকদের। বিশেষ করে সিস্টের মতো সমস্যা থাকলে, সন্তানধারণে সমস্যা হয় বলে জানিয়েছেন তাঁরা। বিশেষ করে ৩৫ বছরের পর হরমোনের ঘাটতি দেখা যায় বলে মত তাঁদের।