হিন্দোল দে, সুকান্ত মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : কলকাতা শহরে বিরাট এলাকাজুড়ে বিরাট অগ্নিকান্ড। ভয়ঙ্কর আগুনের গ্রাসে এজরা স্ট্রিটে আলোর বাজার। একের পর এক বাড়ি ও দোকান চলে যাচ্ছে আগুনের গ্রাসে। মুহূর্তে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ছে আগুন। দমকলের পরপর ইঞ্জিন এসে পৌঁছলেও কিছুই করা যাচ্ছে না প্রায়। লেলিহান শিখা ও কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়ায় ঢেকেছে গোটা এলাকা। যেদিকে চোখ যায় পুরোটাই আগুনের গ্রাসে। 

Continues below advertisement

পুরনো কলকাতার এই সব এলাকা অসম্ভব ঘিঞ্জি। দোকানগুলি ভরা দাহ্য জিনিসপত্রে। তাই আগুন নেভানো কঠিন। যে বাড়িটিতে প্রথম আগুন লাগে, সেটি পুরোটাই আগুনের গ্রাসে। সেখান থেকে একের পর এক দোকানে আগুন লেগে যায়। সময় যত গড়ায়, ততই ছড়ায় আগুন। আশেপাশের বহুতলগুলিতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন দমকল কর্মীরা। ইতিমধ্যেই সেখানে কাজ করছে দমকলের ২০ টি ইঞ্জিন। কিন্তু আগুন এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে তা নেভানো বা নিয়ন্ত্রণে আনা অসম্ভব কঠিন। আপাতত এলাকার মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করছে। বাড়িগুলির ভেতরে কেউ আটকে আছেন কি না খতিয়ে দেখছে দমকল। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই বাড়িগুলিতে মূলত দোকানই। আর রাতে সেখানে কর্মচারীদের থাকার কথা নয়। তবু কোনও নিরাপত্তারক্ষী বা শ্রমিক সেখানে আটকে পড়েছেন কি না, তা এখনও জানা যাচ্ছে না। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। এরই মধ্যে স্থানীয়দের অনেকেই দনকলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগ, আগুন লাগার পর ফোনেই পাওয়া যাচ্ছিল না দমকলকে। তারপর ফোনে খবর দেওয়া হলেও, দমকল আসতে অনেকটাই দেরু করে। প্রথমে এক এক করে দমকলের ৬ টি ইঞ্জিন আসে। কিন্তু ততক্ষণে আগুন অনেকটাই ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর ২০ টি ইঞ্জিন এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।                

সাত সকালে এজরা স্ট্রিটে একটি বৈদ্যুতিন সামগ্রীর দোকানে আগুন লাগে। এলাকাটি একেবারে ঘিঞ্জি।  চারিদিকে জড়িয়ে বিদ্যুতের তার। সেই সঙ্গে একের পর এক বৈদ্যুতিন সামগ্রীর দোকান। তাই দমকলের ২০টি ইঞ্জিনের পক্ষেও পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হচ্ছে। 

Continues below advertisement

এর আগেও ২০২৪-এর ২৩ অক্টোবর আগুন লাগে এজরা স্ট্রিটে। কাঠের বাক্স তৈরির কারখানা থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। দমকলের ১৫টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন। সেই ঘটনার পর ফের ভয়াবহ আগুন এই এজরা স্ট্রিটেই।