কলকাতা: প্রয়াত পরিচালক পার্থ ঘোষ। রাতে সুস্থভাবে খাওয়া দাওয়া করেছিলেন তিনি, তবে সোমবার সকালেই দুঃসংবাদ। প্রয়াত হয়েছেন ৭৫ বছরের বর্ষীয়ান এই পরিচালক। মৃত্যুর সময় নিজের মুম্বইয়ের বাড়িতেই ছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালে ‘অগ্নিসাক্ষী’ ও ১৯৯৭ সালে ‘গুলাম এ মুস্তাফার’ মতো ছবির পরিচালনা করেছিলেন তিনি। পরিচালকের মৃত্যুর খবর প্রথম জানা যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের (Rituparna Sengupta)-র মাধ্যমে। দিন শেষে, পরিচালকের সঙ্গে পুরনো ছবি শেয়ার করে স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন ঋতুপর্ণা। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পুরনো ছবি শেয়ার করে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত লিখেছেন, 'প্রথমেই আমি যেটা বলব, পার্থদা ছিলেন ভীষণ ভাল একটা মানুষ। ওঁর মনটা ছিল ভীষণ ভাল। উনি ভীষণ মৃদুভাষী ছিলেন আর সবসময় সবার সব সমস্যা বুঝতেন। আমায় প্রথম একটা বড় প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে আলাপ করিয়েছিলেন দাদা আর সেখান থেকেই আমি কাজের সুযোগ পেয়েছিলাম। 'তিসরা কৌন' ছবির হাত ধরে আমি প্রথম পা রেখেছিলাম বলিউডে। পার্থদা যেখানেই থাকুন, আমি প্রার্থনা করি ঈশ্বর ওর আত্মাকে ভাল রাখুন, শান্তি দিক। সবসময় হাস্যময় একটা মানুষ ছিলেন উনি। আমি আশা করব আবার পরের জন্মে উনি ইন্ডাস্ট্রিরই একজন মানুষ হয়ে জন্মাবেন আর ইন্ডাস্ট্রির জন্য আবার অনেক অনেক ভাল কাজ উপহার দেবেন। ভাল থাকুন পার্থদা। অনেক ভালবাসা পাঠালাম, আপনি যেখানেই থাকুন না কেন..'

নব্বইয়ের দশকে বলিউডে বহু উল্লেখযোগ্য সিনেমা পরিচালনা করেছেন পার্থ ঘোষ। তাঁর পরিচালিত ‘অগ্নিসাক্ষী’ ছবিটি বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন মনীষা কৈরালা, জ্যাকি শ্রফ এবং নানা পটেকর। বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি এই ছবিটিকে হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ‘গুলাম এ মুস্তাফা’ ছবিও বিশেষ ভাবে আলোচিত হয়েছিল। ছবিতে রবীনা টন্ডন, নানা পটেকর অভিনয় করেছিলেন। তাঁর পরিচালিত ‘হান্ড্রেড ডেজ়’ ছবিটিও গুরুত্বপূর্ণ।

হিন্দির পাশাপাশি, বাংলাতেও কাজ করেছেন পার্থ। হিন্দি ও বাংলা এই দুই জায়গাতেই ছোটপর্দাতেও কাজ করেছেন তিনি। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত পার্থ ঘোষের হাত ধরেই প্রথম মায়ানগরীতে পা রেখেছিলেন। অভিনয় করেছিলেন 'তিসরা কৌন'  সিনেমায়। জানা গিয়েছে, নিজের একাধিক সিনেমার সিক্যুয়াল পরিকল্পনা করেছিলেন পার্থ। কিন্তু তা আর সম্ভব হল না। পার্থ নিঃসন্তান ছিলেন। তাঁর স্ত্রী এখনও জীবিত রয়েছেন। চলচ্চিত্র জগতের বহু মানুষই পরিচালকের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন।