কলকাতা: সেফ আলি খানের (Saif Ali Khan) ওপর হামলার ঘটনায় হামলাকারীর পরিচয় নিয়ে এখনও জারি ধোঁয়াশা। শরিফুলের পরিবারের তরফে দাবি, ক্যামেরায় যে ব্যক্তির ছবি ধরা পড়েছে, সেই ব্যক্তি আর যে ব্যক্তিরা ধরা হয়েছে, তারা আলাদা ব্যক্তি। সেফ আলি খানের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে মহম্মদ শরিফুল ইসলামকে। যদিও তাঁর পরিবারের সূত্রে দাবি, মহম্মদ শরিফুল ইসলাম তাঁদেরই পরিবারের ছেলে হলেও সদগুরু শরণ-এর ক্যামেরায় যে ব্যক্তিকে দেখা গিয়েছে, সেই ব্যক্তিকে তাঁরা চেনেন না। শুধু শরিফুলের পরিবার নয়, এই একই দাবি করা হচ্ছে শরিফুলের আইনজীবীর তরফেও। আর এবার, এই ধোঁয়াশা দূর করতে ডিজিট্যাল ফেস রেকগনিশন টেস্ট (digital facial recognition test)-এর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনায় ধৃত শরিফুলের আইনজীবী জানাচ্ছেন, ' ধৃতের শরীরী ভাষা, ত্বকের রঙের সঙ্গে ক্যামেরায় ধরা পড়া ব্যক্তির শরীরী ভাষা, ত্বকের রঙ মেলে না। আমার ফরেন্সিক টিম থেকে আমায় জানানো হয়েছে, ছবি আর ধৃত শরিফুলের চেহারা মিলছে না।' ধৃত শরিফুলের মা বলছেন, 'আমার ছেলে আমার পরিবারের জন্য অনেক করে। ওর পকেটে যদি ১ টাকাও থাকে, তাহলে ও বাপ-মার জন্য মরে। ও গাড়ি চালিয়েছে... অনেক কাজ করেছে। খুব কষ্ট করেই এই সংসারে টাকাপয়সা দেয়।'
ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ মেঘা বালিয়া বলছেন, 'ডিজিট্যাল ফেস রেকগনিশন টেস্ট করে প্রাথমিকভাবে দুটি মুখের মধ্যে যা যা বিশেষত্ব দেখা গিয়েছে, সেগুলি আলাদা। দুটি ব্যক্তির শরীরী ভাষাও আলাদা বলেই মনে হচ্ছে। তুলনা করে মনে হচ্ছে এই দুজন আলাদা। তবে আরও একাধিক বিষয় থাকতে পারে। হতে পারে, ক্যামেরায় স্বচ্ছতা নেই, সেই কারণে দুটি ব্যক্তিকে আলাদা দেখাচ্ছে। হতে পারে অন্য অ্যাঙ্গেল থেকে ছবিটা তোলা বলে অন্যরকম মনে হচ্ছে। হতে পারে চুলের ধরণ বদলেছে বলে মুখ আলাদা লাগছে। সেই কারণে আমরা এখনই সঠিকভাবে বলতে পারছি না যে এই দুটি ব্যক্তি এক নাকি আলাদা।
জানা যাচ্ছে, ধৃত শরিফুল ইসলামের ডিজিট্যাল ফেস রেকগনিশন টেস্ট (digital facial recognition test) করে দেখবে পুলিশ। এই টেস্টে ফ্রেম বাই ফ্রেম মিলিয়ে দেখা হবে সিসিটিভি থেকে পাওয়া ছবি ও ধৃত ব্যক্তিকে। ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে হবে এই টেস্ট। এই পরীক্ষাটি করার পরেই পরিষ্কার হয়ে যাবে দুটি ব্যক্তি এক কি না। প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই মহম্মদ শরিফুল ইসলামের বাবা দাবি করেছেন, যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে সে তাঁর ছেলে। কিন্তু যাঁকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছিল, সে তাঁর ছেলে নয়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশের তরফ থেকে অভিযুক্ত ও সন্দেহভাজনদের রক্তের নমুনা ও পোশাকের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।