কলকাতা: একটা সময় তিনি দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন, তারপরে পা রেখেছেন রাজনীতিতে। এখনও রাজনীতির আঙিনায় যথেষ্ট সক্রিয় তাঁর উপস্থিতি। তবে এর পাশাপাশি, তিনি চিরকালই সময় দিয়েছেন পরিবারকে। স্বামী, সন্তানকে নিয়ে সংসার করেছেন কেরিয়ার সামলানোর পাশাপাশি। তবে এতগুলো পরিচয়ের পাশাপাশি, তিনি একজন মেয়ে ও। আর আজ, তাঁর মায়ের জন্মদিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় মায়ের সঙ্গে নিজের বিয়ের দিনের একটি ছবি শেয়ার করে নিয়েছেন অভিনেত্রী সাংসদ শতাব্দী রায় (Satabdi Roy)।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শতাব্দী লিখেছেন...
'মা, আজ তোমার জন্মদিন।
মা, কোনোদিন আমি তোমায় উইশ করিনি,
এই জেনারেশন এইসবে অভ্যস্ত, আমরা নই।
তাছাড়া এই উইশ করা কেমন যেন কাঁটা চামচ দিয়ে চচ্চড়ি ভাত খাওয়া বাঙালিদের জন্য তৈরী বলে আমার মনে হতো।
মনে হতো....
আজ মনে হচ্ছে করতেই পারতাম,
এতগুলো বছরে একটু না হয় লিখেই জানাতাম তোমায় তুমি আমার জীবনে কতটা Important !
জানো মা, এই কয়েক বছরে তোমায় একটা চিঠি লিখবো ভেবেছি ,কিন্তু লিখিনি কারণ এখন তোমার ঠিকানা আমি জানি না।
আর ফোনে বা হওয়াটস্অ্যাপে জানাবো সেটাও করিনি কারণ ফোনটা তো তুমি রেখে গেছো, রিচার্জও করিনি আর।
মা, কারোর ওপর রাগ হলে প্রকাশ করেছি তোমার ওপর, তুমি আমার মা।
ব্যস্ততার মাঝে আমার ফোন, আমি খেয়েছি কিনা , আমার মন ঠিক আছে কিনা , এরজন্য যখন বারবার ফোন করতে আমি বিরক্ত প্রকাশ করেছি।
কোনো প্রশ্ন বেশিবার করলে উফ্ মা বলে থামিয়ে দিয়েছি তোমায়।
হয়তো তুমি দুঃখ পেয়েছো কিন্তু না তুমি তো মা ।
মা-দের দুঃখ পেতে নেই, অভিমান করতে নেই এসব তো তুমিই শিখিয়েছো আমায়।
মা,তোমায় নিয়ে অনেক অনেক কিছু লেখার আছে।
আমার কবিতায় তোমার অসহায়তা প্রকাশ পেয়েছে কখনও, কিন্তু তুমি যে আমার পৃথিবী -তা কখনও প্রকাশ করে উঠতে পারিনি।
লজ্জা পেয়েছি তোমার সামনে তোমার প্রশংসা করতে।
মা, তুমি শোনো, তুমি আমার পৃথিবী ছিলে,
আজ আমি বড় একা ,প্রতি মুহুর্তে তোমায় মিস করি।
মা, পরজন্ম বলে যদি কিছু থাকে তাহলে আমার মা হয়ে এসো।
শুধু একটা দিন নয়, প্রতিদিন তোমায় উইশ করবো, আমার পৃথিবীকে প্রতিদিন আমি জানাবো আমার পৃথিবীকে আমি পেতে চাই, আমি আবার পেতে চাই , বারবার পেতে চাই।
আমার মা হয়ে এসো আবার।
কতদিন কথা হয়নি তোমার সঙ্গে, অনেক অনেক কথা জমে গেছে অনেক অনেক ভালবাসার মতোই'
(অপরিবর্তিত)
অভিনেত্রীর এই চিঠি পড়ে আবেগপ্রবণ হয়েছেন অনুরাগীরা। পাশাপাশি, এত সহজ কথায় যে শতাব্দী রায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন, তার জন্য সাধুবাদ ও জানিয়েছেন তাঁকে।