মুম্বই: মায়ানগরীতে নিজের বাংলো ‘মন্নত’ আরও উঁচু করতে পারেন শাহরুখ খান। সমাজকর্মী সন্তোষ দৌন্ডকরের বিরোধিতায় আমল দিল না সুপ্রিম কোর্ট। পরিবেশ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। (Shah Rukh Khan Mannat Case)

Continues below advertisement

‘মন্নত’ সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে মামলাকারীর দাবি ছিল, প্রয়োজনীয় বিধিবদ্ধ অনুমোদন এবং পরিবেশগত নিয়মকানুন মানা হয়নি এক্ষেত্রে। আবেদনকারীর আইনজীবী শোয়েব আলম আদালতে দাবি করেন, কেন্দ্রীয় পরিবেশ, অরণ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের অনুমোদন এক্ষেত্রে অপরিহার্য ছিল। কিন্তু সেই নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে। (Supreme Court on Mannat Expansion)

আরও পড়ুন: ২১ জুলাইয়ের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে আহ্বান কংগ্রেসের, শুভঙ্কর সরকার বললেন, ‘প্রায়শ্চিত্ত হবে...’

Continues below advertisement

আদালতে শাহ আলম আরও জানান যে, যে সমস্ত নির্মাণকার্যের ব্যয় ৫ কোটি টাকার বেশি, সেক্ষেত্রে কেন্দ্রের অনুমোদন নেওয়া পূর্বশর্ত। কিন্তু শুনানি চলাকালীন মামলাকারীর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত জানান, বাংলোটি একটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন বাসভবন। বাংলোর বাসিন্দারা কোনও সংস্কার করতে চাইলে, আইন মেনে তা করতেই পারেন। মামলাকারী বিষয়টি ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালে পাঠাতেও আবেদন জানান। কিন্তু তাঁর সেই আবেদনও গৃহীত হয়নি শীর্ষ আদালতে। বিচারপকিরা জানান, এক্ষেত্রে ব্যক্তি বিশেষের জনপ্রিয়তা বা তাঁর তারকা হওয়া মামলার উপর কোনও প্রভাবই ফেলছে না।

আরও পড়ুন: নবম-দশমে তৃতীয় ভাষায় পাশ করতেই হবে, নইলে মিলবে না সার্টিফিকেট, জানিয়ে দিল CBSE

মুম্বইয়ের বান্দ্রায়, আরব সাগরের তীরে শাহরুখের বাংলোর সংস্কার এবং সম্প্রসারণের ছাড়পত্রের বিরুদ্ধে এর আগে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালেও আবেদন জানান সন্তোষ। যদিও খারিজ হয়ে গিয়েছিল সেই আবেদন। সেবার ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্য়ুনাল জানিয়েছিল, প্রয়োজনীয় বিধি মেনে, ছাড়পত্র নিয়েই সংস্কারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে সটান সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন সন্তোষ। ‘মন্নত’ সংলগ্ন ছয়তলা ভবনটিকে আরও উঁচু করতে, উপরে আরও দু’টি তল গড়তে চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন শাহরুখের স্ত্রী গৌরী খান।

‘মন্নতে’র সংস্কার এবং সম্প্রসারণ নিয়ে ঝামেলার সূত্রপাত ২০২৫  সালে। সেবছর সেপ্টেম্বর মাসে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন সন্তোষ। সেখানে আবেদন খারিজ হয়ে গেলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। চ্যালেঞ্জ জানান ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তকে। তবে সেই নিয়ে হস্তক্ষেপ কর না আদালত। অর্থাৎ এর পর আর বাংলো সম্প্রসারণে কোনও বাধা থাকল না শাহরুখ এবং গৌরীর।

তবে এই প্রথম নয়, ২০১৬ সালে বেআইনি ভাবে বাংলোর বাইরে একটি ব়্যাম্প বানানোর অভিযোগ ওঠে শাহরুখের বিরুদ্ধে। সেই নিয়ে তাঁকে ১.৯৪ লক্ষ টাকা জরিমানা করে পুরসভা। নিজের ভ্যানিটি ভ্য়ান রাখতেই শাহরুখ ওই ব়্যাম্প তৈরি করেন বলে জানা যায়। পরে সেটি ভেঙেও দেয় বৃহন্মুম্বই পুরসভা।