তোর্ষা ভট্টাচার্য্য, কলকাতা: ব্যান, শ্যাডো ব্যান থেকে শুরু করে ছবি মুক্তি নিয়ে বক্সঅফিসের লড়াই... অন্তন্দ্বন্দ্বে জর্জরিত টলিউড। টলিউডে স্ক্রিনিং কমিটি নিয়ে দ্বিমত থেকে শুরু করে, ১০ মাস আগে সিনেমার টিকিট বুকিং নিয়ে আপত্তি.. অনির্বাণ ভট্টাচার্য্য (Anirban Bhattacharya) থেকে ঋদ্ধি সেন (Riddhi Sen)-এর কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া.. সব মিলিয়ে গত বছর থেকেই বারে বারে প্রকাশ্য়ে চলে এসেছে টলিউডের অন্দরের সমস্যা। স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (Swastika Mukherjee) চিরকালই স্পষ্টবক্তা। টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে, অন্যায় দেখলে.. প্রতিবাদ করতে ইচ্ছে হয় তাঁর?

Continues below advertisement

আগামীকালই মুক্তি পাচ্ছে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় অভিনীত 'কালীপটকা'। সেই ছবিতে স্বস্তিকার চরিত্র যথেষ্ট প্রতিবাদী। তবে টলিউডের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবাদে, হিসেবি স্বস্তিকা। এবিপি লাইভ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী স্পষ্ট বললেন, 'নিজের সমস্যা হলে অবশ্যই কথা বলব। আমাকে আমায় জীবন একটা শিক্ষা দিয়েছে.. সেটা হল, কোনটার জন্য লড়ব আর কোনটার জন্য লড়ব না, এটা ভাবনাচিন্তা করে বেছে নিতে হবে। সব যুদ্ধ আমার নয়। সব সমস্যার মধ্যে আমি ঢুকব না, নাক গলাব না। ইন্ডাস্ট্রিতে আমি যখন কোনও অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছি, আমি আমার পাশে কাউকে পাইনি। ওই লড়াইটা আমায় একাই লড়তে হয়েছে। আমার হয়ে কেউ কথা বলেনি, আমার পাশে কেউ দাঁড়াতে আসেনি। আমায় কেউ ফোন করে জানতে পর্যন্ত চায়নি, 'কিছু কি দরকার? সাহায্য চাই?' আমি নিজে লালবাজার গিয়েছি। পুলিশ, উকিলের সঙ্গে কথা বলেছি। নিজে ইমপাতে গিয়েছি.. সবটা নিজে করেছি।' 

স্বস্তিকা আরও বলেন, 'এই বিষয়গুলো নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে, আমি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছি.. কারোর কিছু যায় আসেনি। 'শিবপুর' ছবিটা নিয়ে একটা অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছিলাম। নগ্ন ছবিতে মর্ফ করে আমার মুখ বসানো হয়েছিল। আমায় খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল.. এগুলো নিয়ে আমি আর্টিস্ট ফোরামের কাছে গিয়েছিলাম, ইমপাতে গিয়েছিলাম। ইমপা সহযোগীতা করলেও, আর্টিস্ট ফোরাম কোনোদিন কোনও ফোন করেনি। একটা ইমেল-এর জবাব পর্যন্ত দেয়নি। ওই ছবির বাকি কলাকুশলীরা, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (Parambrata Chatterjee), খরাজ মুখোপাধ্যায় (Khoraj Mukherjee), রজতাভ দত্ত (Rajatabha Dutta) ছিলেন.. কেউ আমায় ফোন করেননি। কেউ আগ্রহ পর্যন্ত দেখাননি। আমার লড়াইটাও আমি লড়ব, অন্যের লড়াইটাও লড়ব... একেবারেই নয়।'

Continues below advertisement

অনির্বাণ ভট্টাচার্য্য কাজ পাচ্ছেন না। কাজ বন্ধ করা হয়েছে ঋদ্ধি সেনেরও। এ নিয়ে স্বস্তিকার মত, 'যাঁরা ব্যান করছেন আর যাঁরা ব্যান হচ্ছেন.. এটার উত্তর তাঁরাই দিতে পারবেন। একটাই কথা বলতে পারি, কেরিয়ারের হাই পয়েন্টে কেউ যদি কাজ না করতে পারেন, তাহলে তাঁর সময়টা চলে যাচ্ছে। এটাই আমার খারাপ লাগে।'