যেভাবে শাহরুখ গৌরিকে, সইফ করিনাকে, অক্ষয় টুইঙ্কলকে ও অভিষেক ঐশ্বর্যকে প্রোপোজ করেছিলেন
অনিল কপূর ও সুনীতা বম্বানি- সিনে দুনিয়ায় অনিল যখন কেরিয়ারের জন্য লড়াই করছিলেন, তখন একদিনের সুনীতাকে দেখেন তিনি। এক দেখাতেই মুগ্ধ হয়ে যান অনিল। বন্ধুদের সাহায্যে সুনীতার ফোন নম্বর যোগাড় করেন। ১৯৮৪-তে মশাল সিনেমার সাফল্যের পর অনিল সুনীতাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। আর তখন তাঁর মনে হচ্ছিল, বড় তাড়াহুড়ো করে প্রপোজ করে ফেলেছেন তিনি। কিন্তু ওইদিনই ফোনে তাঁর প্রস্তাবে রাজি হন সুনীতা। ১৯৮৪-র ১৯ মে অনিল ও সুনীতার বিয়ে হয়। তাঁদের তিন সন্তান-সোনম, হর্ষবর্ধন ও রেহা।
করণ গ্রোভার ও বিপাশা বসু- অ্যালোন সিনেমার সময় তাঁরা একে অপরের কাছাকাছি এসেছিলেন। করণ জানিয়েছিলেন যে, দিনটা ছিল ৩১ ডিসেম্বর। রাতে পুরো আকাশ আতসবাজির আলোয় ভরেছিল। করণ আংটি সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। কেউ একজন করণকে বলেছিলেন, এটাই সঠিক সময়। বিপাশা যখন তাঁর মোবাইলে আকাশের সৌন্দর্যের ভিডিও করছিলেন, তখন সুযোগ বুঝে তাঁর হাতে আংটি পরিয়ে দেন করণ। তাঁর বিপাশার প্রতিক্রিয়া! করণ জানিয়েছেন, তখন মনে হচ্ছিল সিনেমায় কাউকে মেরে ফেলার সময় যেমন প্রতিক্রিয়া হয়, ঠিক তেমনটাই হয়েছিল। প্রায় ১০ মিনিট হাঁটু মুড়ে বসেছিলেন করণ। বিপাশা জিজ্ঞাসা করেন, তোমার হয়েছে কী?তুমি আমাকে বিয়ে করবে? আমি তোমাকে বিয়ে করছি না। পরে শেষপর্যন্ত করণের প্রস্তাবে রাজি হন বিপাশা।
অক্ষয় কুমার ও টুইঙ্কল খন্না- ফিল্মফেয়ার ম্যাগাজিনের শ্যুটিংয়ের সময় অক্ষয় ও টুইঙ্কলের দেখা হয়। প্রথম দেখাতেই প্রেম। অক্ষয় জানিয়েছেন, ২০০০-এ ট্যুইঙ্কলের মেলা সিনেমা রিলিজ হওযার কথা ছিল। ওই সিনেমা নিয়ে খুব আত্মবিশ্বাসী ছিলেন টুইঙ্কল। তখন তিনি বলেছিলেন, এই সিনেমা ফ্লপ হলে বা বক্স অফিসে কোনও সাফল্য আনতে না পারলে তিনি অক্ষয়কে বিয়ে করে নেবেন। মেলা সিনেমা ফ্লপ হয়। এরপর ২০০১-এ দুজনের বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে।
অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বর্য রাই- কুছ না কহো সিনেমার সময়ই একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। দুজনেই স্বীকার করেছেন যে, গুরু সিনেমার সেটে তাঁরা একে অপরের প্রেমে পড়েন। অভিষেক জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক সিনেমার সময় তাঁদের হোটেলের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ভাবতেন, বিয়ের পর এখানে তিনি যদি ঐশ্বর্যর সঙ্গে থাকতেন...! এরপর গুরু সিনেমার নিউইয়র্কে প্রিমিয়ারের পর অভিষেক ওই হোটেলের ব্যালকনিতে ঐশ্বর্যকে নিয়ে গিয়ে প্রপোজ করেন। ২০০৭-এ দুজনের বিয়ে হয়। তাঁদের একটি মেয়ে আরাধ্যা।
করিনা কপূর ও সইফ আলি খান- সৈফিনা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনকে প্রচারে আলো থেকে দূরে রাখতেই পছন্দ করেন। কিন্তু তাঁদের সম্পর্কের কথা অনুরাগীদের কাছে কখনও গোপন করেননি। একে অপরের সঙ্গে ডেট করার আগে সইফের বিয়ে অমৃতা সিংহর সঙ্গে হয়েছিল। আর করিনার সঙ্গে শাহিদ কপূরের সম্পর্ক ছিল। তশন সিনেমার সময় করিনাকে ভালোবেসে ফেলেন সইফ। সইফের প্রস্তাবে রাজি হওয়ার আগে দুবার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন করিনা। তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন যে, সইফ প্যারিসে তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখন করিনা রাজি হননি। ওই সফরের সময়ই সইফ দ্বিতীয়বার প্রস্তাব দেন। আসলে, ওই সময় করিনা কেরিয়ারের তুঙ্গে ছিলেন। তাই সইফের কাছ থেকে তিনি কিছুটা সময় চেয়ে নেন। এর দুদিন পর করিনা সইফের বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হন। ২০১২-র ১৬ অক্টোবর তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁর এক সন্তান-তৈমুর আলি খান।
শাহরুখ খান ও গৌরি খান- টিনএজেই একে অপরের সঙ্গে ডেট শুরু করেছিলেন শাহরুখ ও গৌরি। কিন্তু শাহরুখ গৌরি সম্পর্কে প্রচণ্ড পজেসিভ ছিলেন। এ কথা বুঝতে পেরে তাঁরা কিছুদিনের জন্য একে অপরের থেকে দূরে থাকার কথা ভাবেন। এরপর একটি জন্মদিনের পার্টির জন্য গৌরি শাহরুখকে কিছু না জানিয়েই বন্ধুদের সঙ্গে মুম্বই চলে আসেন। এরপর গৌরিকে খুঁজতে শাহরুখও মুম্বই রওনা দেন। শেষে মায়ানগরীর সমুদ্র সৈকতে গৌরির সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। তাঁরা একে অপরকে কতটা মিস করেন, তা বুঝতে পারেন। এরপর আবেগবিহ্বল শাহরুখ গৌরিকে প্রপোজ করেন। সেই সময় তাঁর চোখে জল চলে এসেছিল। গৌরি সেই প্রস্তাব ফেরাতে পারেননি। ১৯৯১-এ তাঁরা বিয়ে করেন। তাঁদের তিন সন্তান-আয়ান, সুহানা ও আবরাম।
ভ্যালেন্টাইন্স সপ্তাহ শুরু হয়ে গিয়েছে। বলিউড তারকাদের প্রেম কাহিনী সমসময়ই বেশ চর্চার বিষয়। কয়েকজন তারকা যেভাবে তাঁদের প্রেমিককে প্রোপোজ করেছিলেন, তা বেশ আকর্ষণীয়। সব ছবি-ইনস্টাগ্রাম